October 26, 2020, 4:15 am

আওয়ামী লীগে চলছে শুদ্ধি অভিযান হাইব্রিড পৃষ্ঠপোষকদের উপর ক্ষুব্ধ শেখ হাসিনা

ঢাকা ব্যুরো: সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘাপটি মেরে থেকে একের পর এক অপকর্ম আর জনস্বার্থ বিরোধী কীর্তিকলাপে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী হাইব্রিড নেতাকর্মীদের দলীয় পর্যায় থেকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানকারীদের শনাক্ত করার নির্দেশ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি সংগঠনের ভেতরে থেকে এসব স্বার্থপরদের পৃষ্ঠপোষকতা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। দলের একটি বিশেষ সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

রিজেন্ট কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা প্রতারক সাহেদকে গ্রেপ্তার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। প্রতারক সাহেদ আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন দুষ্কর্ম করতো।

শুধু প্রতারক সাহেদ একা না সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের দুর্বৃত্ত দুর্নীতিবাজ ও প্রতারক, যারা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে  বিভিন্ন রকম অপকর্ম করছে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ফরিদপুরে এ ধরনের বেশ কিছু অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানেও এই অভিযান শুরু হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে যারা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছে এবং আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে টেন্ডারবাজী, দুর্নীতি, ক্যসিনো বাণিজ্যসহ নানা রকম অপকর্ম করছে তাদেরকে চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ ঘটানো হচ্ছে।

এ ব্যপারে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, আছে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি। যারাই অপরাধ করবে তাদের পরিচয় দেখা হবে না। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করা হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে। আর এই নির্দেশনা অনুযায়ী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এখন অপরাধীদের ব্যপারে অভিযান পরিচালনা করছে।

তবে এই অভিযান পরিচালনা করতে গিয়েই আওয়ামী লীগের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে যে প্রতারক সাহেদরা কোন দরজা দিয়ে ঢোকে, কে তাদেরকে লালন পালন করে, কাদের কারণে তারা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। এদেরকে চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
স¤প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপচারিতায় এই বিষয়টির দিকে নজর দেয়ার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি, আওয়ামী লীগের ওই সমস্ত নেতাদেরকে বলেছেন যে, যাদের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে সাহেদরা লালিত হয় তাদেরকে চিহ্নিত করা প্রয়োজন এবং তাদেরকে নিবৃত করা প্রয়োজন। কারণ তারাই হল সাহেদের মত প্রতারকদের আওয়ামী লীগে প্রবেশ করানোর প্রবেশদ্বার। এই প্রবেশদ্বার বন্ধ করতে না পারলে আওয়ামী লীগকে কলংকমুক্ত করা যাবে না। এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের জন্যই আওয়ামী লীগের যত অর্জন সব ম্লান হয়ে যাচ্ছে। আর এই কারনেই যারা এই অপরাধীদেরকে দলে নিয়ে আসছেন, পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন এবং আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন তাদেরকে চিহ্নিত করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র গুলো বলছে যে, শোকের মাস পার হলেই আওয়ামী লীগ এ ব্যপারে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করবে এবং যারা এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে গ্রেপ্তার হয়েছেন, হোক না তারা টেন্ডারবাজ, হোক না তারা প্রতারক কিংবা ত্রান আত্মসাৎকারী, তারা কিভাবে আওয়ামী লীগে প্রবেশ করেছে সে ব্যপারে খতিয়ে দেখা হবে।

আওয়ামী লীগের সুত্রে জানা গেছে যে, আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটা বিভাগের জন্য একজন করে সাংগঠনিক সম্পাদক রয়েছেন। প্রাথমিক ভাবে এই সাংগঠনিক সম্পাদকদের এ ব্যাপারে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং তারা এই ব্যপারে প্রথমে রিপোর্ট দিবেন।

শুধু সাংগঠনিক ভাবে নয়, আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যপারে অনুসন্ধানের জন্য একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাকেও দায়িত্ব দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

কারণ আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে যখন ক্ষমতায় আসে তখন বিভিন্ন সময় যারা অন্য দল করতো, টেন্ডারবাজী করতো বা নানা রকম অপকর্ম করতো তারা আওয়ামী লীগে আশ্রয় প্রশ্রয় লাভের চেষ্টা করে।

আর এই আশ্রয় প্রশ্রয় লাভের জন্য তারা আওয়ামী লীগের স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং তাদের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগার হয়ে যায়। কাজেই এই ধরনের ব্যক্তিদেরকে যারা আওয়ামী লীগে প্রবেশ করে এবং পৃষ্ঠপোষকতা দেয় তাদের অপরাধও কোন অংশে কম নয়। তাদের কারনেই এরা আওয়ামী লীগে প্রবেশ করতে পারে।

এ জন্য আওয়ামী লীগে একদিকে যেমন সদস্যভুক্তির জন্য নিয়মনীতি ও কঠোরতা আরোপ হবে তেমনি যে কেউ চাইলেই যে কাউকে প্রবেশ করিয়ে নেতা বানিয়ে দিতে পারবে- এরকম ব্যবস্থাপনাটাও পাল্টানোর উদ্যোগ দেয়া হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগগুলো নেয়া হলেই আওয়ামী লীগের সত্যিকারে শুদ্ধি হবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের তৃনমূলের নেতাকর্মীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ