
একাত্তর নিউজ ডেস্ক :
দেশ জুড়ে তীব্র জ্বালানি তেল ও ডিজেল সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে পরিবহন ও কৃষি খাতে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে কাঠফাঁটা রোদের নীচে দাঁড়িয়েও কাঙ্খিত তেল পাচ্ছেন না মোটরসাইকেল চালকরা। এদিকে, ডিজেল তেলের সংকট থাকায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে চলতি ইরি-বোরো আবাদ।
কাউকে আবার মোটরসাইকেলের ট্যাংকি খুলে মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেকেই ভ্যানে করে মোটরসাইকেল বেঁধে পাম্পে অপেক্ষা করছে তেলের জন্য। আবার অনেকেই তেল বিতরণের আগের রাতে বাইক সিরিয়ালে রাখতে দেখা গেছে। লাইনে অপেক্ষমান সবার মুখে বিরাজ করছে উৎকণ্ঠা আর অস্থিরতা।
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলাতে চারটি পেট্রোল পাম্প ও ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে সান্তাহারে তিনটি এবং নশরতপুরে একটি। ভোক্তাদের অভিযোগ, তেল সিন্ডিকেট করা হচ্ছে। আর পাম্প মালিক বলছেন, নয়ছয় করার প্রশ্নই উঠে না। কারন, উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ সরাসরি পর্যবেক্ষন করছে বিষয়টি। পাম্পে প্রাপ্ত জ্বালানি সরবরাহে তাঁদের কোন গাফিলতি নেই তাঁদের।
সোমবার উপজেলার সান্তাহারের আনিকা ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, বাইকারদের দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তির চিত্র। ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না কাঙ্খিত তেল। এতে ভোগান্তিতে পরেছেন অনেকে। গতকালও চার ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে যারা তেল পাননি, তারা এসেছেন আজকে তেল নিতে। সবারই অভিযোগ, আত্মীদের গোপনে তেল দেওয়া হচ্ছে।
মোটরসাইকেল চালক তাওহীদ জানায়, ‘পাম্পে এসে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছি। প্রায় তিন ঘন্টা রোদে দাঁড়িয়ে ছিলাম। দীর্ঘ লাইন। কর্তৃপক্ষ এখন বলছেন, তেল নেই। শেষ হয়ে গেছে। দুইদিন পর পাওয়া যাবে তেল। বাধ্য হয়ে ফিরে যাচ্ছি। দিনটাই বৃথা।’
ক্ষোভ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘পাম্পে তেল সিন্ডিকেট হচ্ছে। পাম্প শ্রমিকদের আত্মীয়দের লাইনে দাঁড়াতে হয়না। তারা এমনিতেই তেল পায়। পুলিশ রয়েছে এখানে। কিন্তু কোন দায়িত্ব যেন তাঁদের নেই।’
তেল পেয়ে অনেকেই উল্লাস প্রকাশ করে বলেন, সকাল দশটায় লাইনে দাঁড়িয়েছি। তিন ঘন্টা পর তেল পেয়েছি। মাত্র তিনশ টাকার। তাও ভাল। কয়েকদিন চলতে পারবো।
লাইনে দাঁড়ানো সাজু নামের আরেক বাইকার বলেন, ‘দুইশ টাকার তেল পেয়েছিলাম গতকাল। আমি এসেছি নওগাঁর রাণীনগর থেকে। আনিকার তেল গুণে ও মানে ভাল। বাড়ি থেকে আসতে যেতে আমার প্রায় দেড়শ টাকার তেল খরচ হয়। যদি বেশি টাকার তেল পেতাম, ভাল লাগতো।’
সাঁওইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, ‘বাইকের তেল পাওয়া কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অবশ্য শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বাইক বাইরে বের করিনি। কাল থেকে আবার স্কুল শুরু হবে। তেল না হলে বাইক চলবেনা। এজন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি। এর আগে একদিন বিদ্যালয় থেকে তেল নিতে এসেছিলাম। আমরাও বেকায়দায় পরেছি। চাকুরীজীবিদের জন্য আলাদা লাইন থাকলে ভাল হতো। তা না হলে, ভোগান্তি চরমে উঠবে।’
সান্তাহার আনিকা ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী আব্দুল জলিল জানান, ‘পাম্পের চাহিদা অনুযায়ী আমরা তেল পাচ্ছি না। সকাল নয়টা থেকে তেল দেওয়া চলমান থাকে। আমাদের স্টক যতটুকুন থাকে, আমরা তেল দিই। শেষ হলে তো আর সম্ভব না। চেষ্টা করা হয় যেন সবাই তেল পায়।’
আপনার মতামত লিখুন :