
এফবিসিসিআই শীর্ষ পদে অতীতে যখন সরাসরি ভোটে নির্বাচনের বিধান ছিল (যদি আমার স্মৃতি আমার সাথে বিট্রে না করে থাকে) তখনও প্রেসিডেন্ট পদে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। একটি প্যানেলের প্রতি প্রেসিডেন্টের নীরব সমর্থন থাকলেও মূলতঃ ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের নেতৃত্বে দুই প্যানেল নির্বাচন করেছে। অদৃশ্য চাপ বা সমঝোতার কারণে প্রেসিডেন্ট পদে অনেক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত একক প্রার্থীই দেখা যেত। এবারের নিয়মে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করাটা খুব সহজ হবে না। কারণ শীর্ষ পদে চেম্বার ও এসোসিয়েশনের ভোটে প্রার্থীকে জয়ী হতে হবে। সেক্ষেত্রে নতুন বা স্বল্প পরিচিত প্রার্থীদের এ নির্বাচন অনেক চ্যালেঞ্জিং ও ব্যয়বহুলও বটে। তবে এসোসিয়েশনে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবার সম্ভাবনা থাকলেও চেম্বারে দুইটি প্যানেল হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। এখন পর্যন্ত চেম্বারে অনেকে প্রার্থীতা ঘোষণা করে কিছু জনসংযোগ করছে বটে, তবে অনুমেয় যে সেটা অনেকটা বারগেইনিং এর জন্য।
অনেকেই প্রেসিডেন্ট ও ভাইস পদে প্রার্থীতা ঘোষণার জন্য ঘনিষ্ঠদের নিয়ে মিটিং করলেও নিজের প্রার্থীতা চূড়ান্ত করেনি। শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদে কি অদৃশ্য চাপেই হোক বা সমঝোতার কারণে হোক, এমন চ্যালেঞ্জিং, ব্যায়বহুল, কষ্টসাধ্য সর্বোপরি অতীত পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনায় এবারও একাধিক প্রার্থী থাকে কিনা সেটা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে। তবে অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে এসোসিয়েশনে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে একাধিক প্রার্থী থাকতে পারে। যদিও চেম্বারের ক্ষেত্রে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে একাধিক প্রার্থী না থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এটা নিতান্ত আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ। সরাসরি ভোটে শীর্ষ পদে নির্বাচন হবার কারণে ও আগামী দিনের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, আমেরিকার নতুন ট্যারিফ নীতি, জিও পলিটিকস ও বাংলাদেশের ২০২৭ সালে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ইত্যাদি বিবেচনায় এবারের এফবিসিসিআই নির্বাচন এমনিতেই গুরুত্বপূর্ণ। আর এফবিসিসিআই শীর্ষ পদে সরাসরি ভোট সেটা কেবল নামেই, কখনও দুই প্রেসিডেন্ট সরাসরি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নাই। তাই এবারে শেষ পর্যন্ত কি চমক আসে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ধন্যবাদ।
আপনার মতামত লিখুন :