Agaminews
Dr. Neem Hakim

কম্পনে কেঁপে উঠল ডেমরা, ভবনে ফাটল–হেলে পড়ায় বাসিন্দাদের উদ্বেগ


Ekattor News প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২২, ২০২৫, ৩:২৭ অপরাহ্ন /
কম্পনে কেঁপে উঠল ডেমরা, ভবনে ফাটল–হেলে পড়ায় বাসিন্দাদের উদ্বেগ

 

নিজস্ব সংবাদদাতা, ডেমরা, ঢাকা

রাজধানীর ডেমরায় আজ সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার মাঝারি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। কম্পনটি অল্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হলেও তীব্র নড়াচড়ায় পুরো এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘরবাড়ি হঠাৎ কেঁপে উঠতে শুরু করলে বাসিন্দারা দৌড়ে বাইরে বের হয়ে রাস্তায় ভিড় জমায়। ভূমিকম্পের পরপরই বিভিন্ন স্থাপনায় ফাটল, হেলে পড়া ও কাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, সারুলিয়ার রানীমহল ব্রীজের ঢালে একটি ছয়তলা ভবন পাশের ভবনের ওপর  হেলে পড়েছে, বড়ভাঙ্গায় একটি তিনতলা ভবন নিকটবর্তী ছয়তলা ভবনের দিকে হেলে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া বক্সনগর, সানারপাড়সহ আশপাশের এলাকায় বহু আবাসিক ভবন ও মসজিদের দেয়াল এবং ছাদে ছোট-বড় ফাটল দেখা গেছে। সারুলিয়ার সুন্দরবন থাই দোকানে বিক্রির জন্য রাখা সব গ্লাসও ভূমিকম্পের ফলে ভেঙে গেছে। কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও পরে তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এলাকায় কয়েক ঘণ্টা ধরে আতঙ্কজনিত পরিস্থিতি বিরাজ করে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, হঠাৎ পুরো ঘর কেঁপে উঠতে লাগল। আমার ৩৭ বছর জীবনে এমন ভূমিকম্প অনুভব করিনি। বাচ্চাদের নিয়ে দৌড়ে নিচে নেমে যাই। আরেক বাসিন্দা জানান, আমার বিল্ডিংয়ের দেয়ালে সরু ফাটল ধরেছে। সারা জীবনের সঞ্চয়ে এই বাড়ি করেছি। কিছু হয়ে গেলে সব শেষ হয়ে যেত।

ভূমিকম্প সাধারণত পৃথিবীর ভূত্বকের নিচে থাকা টেকটোনিক প্লেটের হঠাৎ নড়াচড়া বা ফাটলের কারণে ঘটে। প্লেটগুলোর সংস্পর্শস্থলে চাপ জমে থাকলে তা ফাটলের মাধ্যমে শক্তি হিসেবে বেরিয়ে আসে এবং সেই শক্তিই কম্পন আকারে ভূ-পৃষ্ঠে অনুভূত হয়। মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত রিখটার স্কেলে ৪–৬ মাত্রার মধ্যে থাকে, যা ঘরবাড়ি ও স্থাপনায় ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম।

এলাকাবাসীরা বলেন, এলাকার দুর্বল ও পুরনো ভবনগুলো আগে চিহ্নিত করে শক্তিশালী করা উচিত। অনেক ভবন বছরের পর বছর কোনো রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। এসব ভবন রেট্রোফিটিং বা পুনর্গঠনের মাধ্যমে ভূমিকম্প-সহনীয় করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভূমিকম্প বা ভূমিধসের আগেই সতর্কতা পাওয়ার মতো আধুনিক ব্যবস্থা চালু করা হলে মানুষ সময়মতো নিরাপদে সরে যেতে পারবে। তারা আরও বলেন, স্কুল-কলেজ, মসজিদ বা কমিউনিটি সেন্টারে যদি নিয়মিতভাবে শেখানো হয় ভূমিকম্পের সময় কী করতে হবে, কোথায় দাঁড়ানো নিরাপদ, গ্যাস-বিদ্যুৎ কিভাবে বন্ধ করতে হয়, তাহলে সবাই অনেক বেশি প্রস্তুত থাকবে।

ডেমরা থানার ওসি মো. মাহমুদুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত কোথাও আহত বা নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।