
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ছনকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চলমান প্রশাসনিক সংকট ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ। বিদ্যালয়ের পরিবেশে বিরাজ করছে চরম হতাশা ও বিশৃঙ্খলা। এতে করে ২৪০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই বিদ্যালয় বর্জন করেছে বলে জানা গেছে।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রধান শিক্ষককে কোনও রেজুলেশন ছাড়াই পূর্বপাড়ায় শ্রেণি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর ১৯ মে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কারের চিঠি প্রদান করা হয়। ঠিক পরদিন, ২০ মে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পূর্বের আদেশ বাতিল করে পূর্বপাড়ায় ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দেয়, যা প্রশাসনের ভেতরে সমন্বয়হীনতা ও দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে আনে।
পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ বিদ্যালয়ের নথিপত্র চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষাদানে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এখন আমরা শুধু চাকরি বাঁচানোর চেষ্টা করছি, শিক্ষাদান নয়।” অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা বন্ধু-বান্ধবহীন ক্লাসরুমে বিষণ্ণতায় ভুগছে।
অভিভাবকরাও রয়েছেন চরম উদ্বেগে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অস্থিরতার স্থায়ী সমাধান না হলে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভীষণ চিন্তিত। সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আমরা বাধ্য হয়ে স্কুল পরিবর্তন করতে বাধ্য হবো।”
সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক সমন্বয় ঘটিয়ে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
আপনার মতামত লিখুন :