
পলাশ চন্দ্র দাস, স্টাফ রিপোর্টার
সাম্প্রদায়িকতা বিনাশ করো মানবিক রাষ্ট্র গড়ো এই প্রত্যয় নিয়ে জাতপাত বিলোপ কনভেনশনের আহ্বায়ক শ্রীকৃষ্ণ লালের সভাপতিত্বে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আজ সকাল ১০টায় প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের নাগরিক অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরম্পরা উল্লেখ করে বক্তাগণ বলেন বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িকতার কোনো বাস্তবতা নাই। তবুও কৃত্রিম পরিস্থিতি সৃষ্টি করে এদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমন চলছে। সম্প্রতি লালমনিরহাট জেলার সদর থানার গোশালা বাজারে সেলুনে চুল কাটার পর মাত্র ১০ টাকা বেশী দাবি করায় দোকান মালিক ও তার পুত্রকে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মারধোর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেলুনের কাজে কর্মরত ব্যক্তিদের কথা এদেশে কে না জানে! তাদের কাছে সকল ধর্মের মানুষ চুল কাটাতে যায়। কোনো ধর্মের অবমাননা করে সে নিজের পায়ে কুরাল মারতে পারে না। অথচ স্বার্থান্বেষীরা মব সৃষ্টি করে যা করেছে তা বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতি পরিপন্থী।
বক্তারা আরো উল্লেখ করেন, অন্তবর্তীকালীন সরকার অজানা কারণে গত ১১ মাস কৃত্রিম সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতিকে দমন না করে দায়িত্বহীন বিবৃতি দিচ্ছেন। বিশেষত কোনো রকম নোটিশ ছাড়া ঢাকার খিলখেতে মন্দির গুড়িয়ে দিয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকার কৃত্রিম সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিয়েছে। প্রতিবাদী মানববন্ধন থেকে এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং শীল পরিবারের পিতা-পুত্রের নি:শর্ত মুক্তি দাবি করা হয় ও গুড়িয়ে দেওয়া মন্দির পুননির্মানের আহ্বান জানান।
বক্তারা আরো উল্লেখ করেন বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষে জাতীয় ঐক্যমত প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। প্রায় ৩ কোটি জনগণকে জাতীয় ঐক্যমতের বাইরে রাখা হবে ঐতিহাসিক ভুল। বক্তারা অনতিবিলম্বে জাতীয় ঐক্যমতের আলোচনায় সংখ্যালঘুদের মতামত শোনার ব্যবস্থা করতে বলেন।
জাতপাত বিলোপ কনভেনশনের সদস্য সচিব এডভোকেট উৎপল বিশ্বাসের সঞ্চালনায় প্রতিবাদী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ছাত্রনেতা সৃজন রায়, লেখক এডভোকেট পবিত্র মিস্ত্রী, নারীনেত্রী পূজা রাণী, যুবনেতা প্রশান্ত বিশ্বাস, সমাজচিন্তক শুধাংশু কুমার গাইন, মতুয়ানেতা সমীরণ মণ্ডল, হরিজননেতা গগণ লাল, দলিতনেতা উজ্জ্বল দাস ও চাঁনমোহন রবিদাস, হরিজন ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব প্রদীপ হেলা, প্রধান অতিথি ও মানবাধিকার কর্মী মনীন্দ্র নাথ। সংহতি জানানোর জন্য উপস্থিত ছিলেন দলিত ট্রাস্টের সভাপতি রাজেন্দ্র কুমার দাস, অনুভরের সম্পাদক অতুলচন্দ্র মণ্ডল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের এডভোকেট শ্যামল রায় ও জয়ন্ত সেন দীপু।
সভাপতি শ্রীকৃষ্ণ লাল অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে মাইনরিটি কমিশন গঠনের দাবি জানান।
আপনার মতামত লিখুন :