Agaminews
Dr. Neem Hakim

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে কুমারখালী উপজেলার ৬ টি অফিসের দাপ্তরিক কাজ


admin প্রকাশের সময় : জুন ৩, ২০২৫, ২:৫১ অপরাহ্ন /
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে কুমারখালী উপজেলার ৬ টি অফিসের দাপ্তরিক কাজ

বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ

আবু দাউদ রিপন খুলনা ব্যুরো

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন ভবনে চলছে, উপজেলার ৬ টি অফিসের দাপ্তরিক কাজ।
এ ব্যাপারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজলার কৃষি সম্প্রসারণ, মহিলা বিষয়ক, মৎস্য, সমবায়, ইউডিএফ ও দারিদ্র্য বিমোচন অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অফিসের দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির ছাঁদ সহ বিভিন্ন জায়গায় ফাঁটল দেখা দিলেও আজও পর্যন্ত নানা জটিলতায় আটকে রয়েছে ভবনের উন্নয়নকাজ।
জায়গা না থাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস পরিচালনা করতে হচ্ছে। প্রায়ই ছাঁদ সহ ভবনের বিভিন্ন অংশের প্লাস্টার খসে পড়ে রুমের ভিতর, যার ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয় ভিতির মধ্যে দিয়ে অফিসের দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে ।
উপজেলা কৃষি অফিসের দুইটি রুমের অবস্থা বেজায় খারাপ। এখানে ঝুঁকির মধ্যে বসে হাজার হাজার কৃষকের সেবা প্রদান করে যাচ্ছে কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় সেবাপ্রার্থীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
অফিস সূত্রে জানা যায়, ভবনটি দির্ঘদিন ত্রুটিযুক্ত থাকায় মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এ আবেদন আর আশার আলো দেখেনি।
কৃষি অফিসার মোঃ রাইসুল ইসলাম বলেন, কুমারখালী একটি ব্যস্ততম উপজেলা। আমি গত ২২/১১/২০২৪ তারিখ এখানে যোগদান করেছি। আমি যোগদান করেই এমন অবস্থা দেখেছি। ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আমাদের কাজ করতে ও সেবা গ্রহীতাদেরও সমস্যা হচ্ছে।
প্রায় সকালে অফিস রুমের দরজা খুললে ভেঙে পড়া অংশ দেখা যায়। সকল রুমের অবস্থা প্রায় একই ধরনের। বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে এবং ওয়ালের প্লাস্টার খুলে পরছে। বিষয়টি উপজেলা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, আমাদের অফিসের রুম কিছুটা ভালো থাকলে ও জানালা দরজাগুলোর অবস্থা বেজায় খারাপ। অতি দ্রুত এগুলো সংস্কার প্রয়োজন।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফেরদৌস নাজনীন বলেন আমার অফিসের ছাঁদ ও ওয়ালের প্লাস্টার ড্যামেজ হয়ে যাবার ফলে খসে পড়ছে। প্রতি মূহুর্তে অনেক ভয়ের মধ্যে অফিস করি। ভবনের সংস্কার অতি জরুরি বলে আমি মনে করি।
উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা বলেন, আমি এখানে ৩ বছর যাবৎ কর্মরত আছি। আমাদের রুমের ছাঁদ ও ওয়ালগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। বড় বড় প্লাস্টারের চটা খসে পড়ছে, বিষয়টি কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন সুরাহ হচ্ছে না। প্রতিদিন জিবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ অবস্থায় থাকলে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, জায়গার বিষয়টি বিবেচনা করে লিফট সহ ৮ তলা ফাউন্ডেশনের ভবনের নকশা মন্ত্রণালয়ে প্রেরনকরা হয়েছে। বর্তমানে একনেকে পাশের অপেক্ষায় আছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন ইতিমধ্যে উপজেলার মধ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করা হয়েছে। ভবনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা আসলেই আমরা এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিব।
উল্লেখ্য ২০১৮ সালের দিকে ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়। জায়গার স্বল্পতার কথা বিবেচনা করে সর্বশেষ ৮ তলা ভবনের নকশা মন্ত্রণালয়ে পেশ করা হয়, যাহা অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
এমতাবস্থায় নতুন ভবনের কাজ দ্রুত অনুমোদনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন কর্মকর্তা কর্মচারী ও সাধারণ জনগন।