
পলাশ দাস
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আজ শনিবার বিকেলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৫০ নং ওয়ার্ডের জনগণ তাদের নানা রকম দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মোঃ শামসুল হক সরকার এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব সৈয়দ আহমেদ হেলাল।
তারা বলেন – ২০১৮ সালে অবৈধ স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার খবরের শিরোনাম হওয়ার জন্য সাবেক দক্ষিণখান, উত্তরখান, হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের জনগণকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে একটি গেজেটের মাধ্যমে অত্র এলাকাকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করেন। কিন্তু বিগত ৭ বছরে নাগরিক সুবিধা সহ এলাকার উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক কোন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। ফলে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকাবাসীর সুবিধার্থে যে কাজগুলি করছে সেগুলো এখন নষ্ট হয়ে যেন দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে বলে তারা জানান। বর্তমানে ড্রেনেজ সিস্টেম সহ ল্যাম্প পোস্ট না থাকায় রাতের বেলায় অত্র এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে থাকে। এলাকার মশা নিধনের কোন কর্মসূচি না থাকায় মশার কামড়ে এলাকাবাসী একদিকে যেমন অতিষ্ঠ অন্যদিকে জলাশয় গুলো মশা উৎপাদনের খামারে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ময়লা ফেলার কোন নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় এলাকাগুলো ময়লা-ফেলার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। যার ফলে ময়লার দূর্গন্ধে এলাকায় বসবাস করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলাকার বাড়ি ও ফ্লাট মালিকগণ অধিকাংশই ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেছেন, যে কারণে মাস শেষে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। তার উপর অধিক হারে কর ধার্যসহ বকেয়া ৭ বছরের কর পরিশোধ করার জন্য প্রত্যেক বাড়ি বা ফ্লাট মালিকের নামে নোটিশ জারি করা হয়েছে। তাদের ঋণের কিস্তি পরিশোধ, অধিক হারে কর এবং বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের নোটিশ এলাকার জনগণকে মানসিক ও আর্থিক চাপে ফেলেছে বলে তারা জানান। অতীতেও তারা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তুলে ধরেন এবং প্রশাসক বরাবর স্মারক লিপিও প্রেরণ করেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে কর্তৃপক্ষ তাদের কোন সমস্যার সমাধান করার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেননি।
কাজেই তারা এখন উক্ত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস স্যারের কাছে অত্র এলাকার সকল সমস্যা সমাধানের জন্য জোর দাবি জানান এবং বিগত অবৈধ সরকারের জারিকৃত ২০১৮ সালের গেজেট বাতিল পূর্বক কর পুনঃনির্ধারণ করার জন্য আকুল আবেদন জানায়। এছাড়াও উচ্চহারে করের বোঝা মানুষের কাঁধে না চাপিয়ে এলাকার জনগণের মতামতের গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবতার নিরিখে গ্রহণযোগ্য কর পুনঃনির্ধারণ এবং বকেয়া ৭ বছরের কর মওকুফের জন্য জোরালোভাবে আহ্বান জানায়।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন – আব্দুস সালাম সরকার, আলহাজ্ব মোঃ শাহাবুদ্দিন, মোঃ সামসুল হক সরকার, সৈয়দ আহমেদ হেলাল, মোঃ নাজমুল হাসান, ইদ্রিস আলী সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং আরো অনেক গণ্য-মান্য ব্যক্তিবর্গ।
আপনার মতামত লিখুন :