
কবিতা
চলেই যদি যাবে, তবে কেন এলে আমার নির্জন বিকেলে?
যে উঠোনে বহুদিন কোনো স্বপ্নের পায়ের শব্দ শোনা যায়নি,
সেখানে তুমি নিঃশব্দে বসন্তের বীজ বুনে দিলে।
আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম স্বপ্নেরও একটা রঙ থাকে,
একটা রেশ থাকে, একটা নাম থাকে— যার উচ্চারণে অবেলাও ভোর হয়ে যায়।
তুমিই তো বলেছিলে, “আবার শুরু হোক…” আমি বিশ্বাস করেছিলাম।
বুকের ভাঙা ইট দিয়ে নতুন ঘর তুলেছিলাম,
অবিশ্বাসের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তোমার জন্য একটি জানালা খুলেছিলাম।
আমি তো সব গান ভুলে গিয়েছিলাম,
তুমিই নতুন সুরে আমার নীরবতাকে গাইতে শিখিয়েছিলে।
আজ সেই সুরই আমার দীর্ঘশ্বাসের আরেক নাম।
তবে কেন এত যত্নে ভালোবাসার অক্ষর লিখে,
শেষ পাতাটি ফাঁকা রেখে চলে গেলে?
কেন হাত ধরে পথের অর্ধেক এসে আমাকেই পথহারা করে দিলে?
জানো, মানুষ চলে গেলে ততটা কষ্ট হয় না,
যতটা কষ্ট হয় তার রেখে যাওয়া স্বপ্নগুলোকে প্রতিদিন একটু একটু করে মরে যেতে দেখতে।
তুমি চলে গেছ— তবু তোমার রেখে যাওয়া কিছু অসমাপ্ত গান,
কিছু অর্ধেক বলা কথা, আর এক সমুদ্র অপেক্ষা এখনও আমার ভেতরে নিঃশব্দে তোমাকেই ডাকে।
কিছু বিদায়, মানুষকে একা করে না— চিরদিনের জন্য স্বপ্ন দেখতে ভয় পাইয়ে দেয়।
লেখক : পারভীন আহমেদ
আপনার মতামত লিখুন :