
কবিতা
পুরুষ, তুমি চাইলে আমায় ছুঁতে পারো—
ভিড় ভরা ট্রেনে, ক্লান্ত বাসে, হেঁটে চলা রাস্তায়, অথবা কোনো জনস্রোতের অগোচরে।
আমার সম্মতি থাক বা না থাক, তোমার আঙুলের দম্ভ অনেক সময় আইনকেও হার মানায়।
কিন্তু বলো তো, সে ছোঁয়ায় কী সুখ পাও?
এক মুহূর্তের বিকৃত উল্লাসের বিনিময়ে কত দীর্ঘ রক্তক্ষরণ জমে থাকে একটি নারীর ভেতরে, তা কি কখনো ভেবেছ?
তোমার স্পর্শ যদি হতো আশ্বাসের, যদি হতো সহানুভূতির, যদি হতো শ্রদ্ধার—
তবে পৃথিবীটা এতটা ভীতিকর হতো না।
আজ আমরা শিশুদের শেখাই—
“গুড টাচ, ব্যাড টাচ।” কী নির্মম সময়!
যে বয়সে শেখার কথা ছিল রংধনু, পাখি আর প্রজাপতির ভাষা,
ঘাস ফড়িং এর সাথে ছুটে চলা সে বয়সেই তারা শেখে কোন হাত নিরাপদ, কোন হাত বিষাক্ত।
কেন আমার কন্যাসন্তানকে ঘরেও সতর্ক থাকতে হবে, বাইরেও শঙ্কায় হাঁটতে হবে?
কেন তার শৈশবের পাশে ভয়ের প্রহরী দাঁড়িয়ে থাকবে?
পুরুষ, যদি সত্যিই ছুঁতে চাও, তবে দেহ নয়— হৃদয় ছুঁয়ে দেখো।
সম্মানের হাত রাখো, বিশ্বাসের হাত রাখো, মানুষের পাশে মানুষ হয়ে দাঁড়াও
দেখবে, পারস্পরিক শ্রদ্ধার সেই স্পর্শে কোনো ক্ষত জন্মায় না—
জন্ম নেয় একটি নিরাপদ শান্তির তীর্থভূমি।
লেখক : পারভীন আহমেদ
আপনার মতামত লিখুন :