
তোমার সঙ্গে যেদিন আমার দেখা হবে,
সেদিন কোনো উৎসবের আয়োজন থাকবে না—
থাকবে শুধু দু’জোড়া নীরব চোখ,
যারা বহু বছর ধরে
একই আকাশের নিচে থেকেও
একে অপরকে ছুঁতে পারেনি।
পারোনি মুখেমুখি বসে মনের কথা বলতে বা ঝুম বৃষ্টিতে বলতে–চলো দুজন মিলে ভিঁজে জ্বর বাঁধা ই
আমি কোনো অভিযোগ আনব না,
জিজ্ঞেসও করব না—
কেন এত দেরি হলো?
কারণ সময়েরও তো নিজস্ব নিয়তি আছে,
সে কাউকে তাড়াহুড়ো করে
ভালোবাসার ঠিকানায় পৌঁছে দেয় না।
তোমার মুখের দিকে চেয়ে
আমি শুধু একবার মৃদু হেসে বলব—
“দেখো, অপেক্ষা এখনও বেঁচে আছে,
শুধু তার চুলে লেগেছে কিছু রূপালি ধুলো।”
তুমি যদি হাত বাড়াও,
আমি হাত রাখব নিঃশব্দে—
যেন দুটি নদী
দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর
আবার সাগরের পথে পাশাপাশি বয়ে চলে।
সেদিন হয়তো সূর্য ডুবে যাবে,
পাখিরা ফিরবে আপন নীড়ে,
আর সন্ধ্যার আকাশে
প্রথম তারা জ্বলে উঠবে
আমাদের নীরব সাক্ষীর মতো।
তোমার সঙ্গে যেদিন আমার দেখা হবে,
সেদিন বুঝব—
সব ভালোবাসা একসঙ্গে থাকার জন্য জন্মায় না;
কিছু ভালোবাসা জন্মায়
অপেক্ষাকে অমর করে রাখার জন্য।
আর যদি সেই দেখা হয় জীবনের শেষ বিকেলে,
তবু আমার কোনো আক্ষেপ থাকবে না।
কারণ তোমাকে একবার চোখ ভরে দেখার আনন্দ
হাজার অপূর্ণ জীবনের চেয়েও
অনেক বেশি পূর্ণতা নিয়ে আসে।
লেখক: পারভীন আহমেদ
আপনার মতামত লিখুন :