
আলম খান, নরসিংদী :
সত্য, ন্যায়, ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের অবিনাশী শিক্ষা নিয়ে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও গভীর শোকাবহ পরিবেশে পালিত হয়েছে মহান পবিত্র আশুরা। কারবালার রক্তস্নাত প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন (রা.), তাঁর পবিত্র আহলে বাইত ও বিশ্বস্ত সঙ্গী-সাথীদের অতুলনীয় আত্মত্যাগ আজও মানবতার বিবেককে জাগ্রত করে, সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার প্রেরণা জোগায়।
এই মহান দিনের তাৎপর্য উপলক্ষে জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল এক বাণীতে বলেন, “সত্য চিরস্থায়ী। তাই আলোকিত ও অর্থবহ জীবন গঠনে কারবালার সুমহান আত্মত্যাগ বিশ্বাসীদের চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।” তিনি মুসলিম উম্মাহর প্রতি আহ্বান জানান, পবিত্র আশুরার শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে সত্য, ন্যায়, মানবতা ও সমাজে কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করার।
চিরায়ত ঐতিহ্য অনুযায়ী, শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর বাইশরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে শুরু হয় পবিত্র আশুরার অনুষ্ঠানমালা। মাগরিবের ফরজ ও সুন্নত নামাজ আদায়ের পর দুই রাকাত করে মোট ছয় রাকাত নফল নামাজ এবং বিশেষ মুনাজাতের মাধ্যমে এ আয়োজনের শুভ সূচনা হয়।
এরপর সারারাতব্যাপী ওয়াক্তিয়া নামাজ, নফল ইবাদত-বন্দেগি, মোরাকাবা-মোশাহাদা, জিকির-আযকার, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, দফায় দফায় মিলাদ মাহফিল, বিশেষ মুনাজাত এবং কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনা নিয়ে আবেগঘন বয়ান অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি পর্বে উপস্থিত জাকেরান ও আশেকানদের চোখে ছিল শোক, হৃদয়ে ছিল ইমাম হুসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
বাণীতে আরও বলা হয়, কারবালার প্রান্তর আজও মানবতার সামনে সত্য ও মিথ্যার চিরন্তন সংগ্রামের প্রতীক হয়ে আছে। জুলুম, অন্যায় ও অত্যাচারের কাছে মাথা নত না করে হযরত ইমাম হুসাইন (রা.) ইসলামের প্রকৃত আদর্শ রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনার শাহাদাত এবং পরবর্তী নির্মম ঘটনাবলি মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে এক গভীর বেদনা ও শোকের অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে জাকের পার্টির মহান প্রতিষ্ঠাতা বিশ্ব ওলী হযরত মাওলানা শাহসুফী খাজাবাবা ফরিদপুরী (রঃ) ছাহেবের পবিত্র রওজা শরীফ জিয়ারত করা হয়। এছাড়া দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং সর্বোপরি শান্তিকামী বিশ্বমানবতার কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা কামনায় বিশেষ মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
পবিত্র আশুরার এই মহিমান্বিত আয়োজন যেন প্রতিটি হৃদয়ে সত্যের দীপ্তি, ন্যায়ের সাহস, ধৈর্যের শক্তি, ত্যাগের মহিমা ও ঈমানের আলো প্রজ্বলিত করে—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা। কারবালার অমর শিক্ষা যুগে যুগে মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শক্তি জোগাবে এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :