
শুক্রবার রাতে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন জানিয়েছে, গাজাগামী ত্রাণবাহী জাহাজ হান্দালার ওপর দিয়ে একাধিক ড্রোন উড়তে দেখা গেছে, যা ইসরায়েলি বা ন্যাটোর সম্ভাব্য বাধা সম্পর্কে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জোট বাহিনী বলেছে, “গত ৪৫ মিনিটে ১৬টি ড্রোন হান্দালা নদীর ওপর দিয়ে উড়তে দেখা গেছে, এদের মধ্যে কয়েকটি জোড়ায় জোড়ায়, কিছু সরাসরি জাহাজের ওপর দিয়ে উড়তে দেখা গেছে।
ফরাসি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্য গ্যাব্রিয়েল কাথালা, যিনি জাহাজে থাকা ২১ জন আন্তর্জাতিক কর্মীর একজন, তিনি “ষষ্ঠ দিন” শিরোনামে একটি ভয়েস বার্তা জারি করেছেন, যাতে আগামী কয়েক ঘন্টা বা সকালে সম্ভাব্য আক্রমণ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।
আমরা ঐক্যবদ্ধ, পূর্ণ সংহতি এবং প্রস্তুত। ড্রোন আসতে শুরু করেছে। ওয়াই-ফাই কেটে গেলে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে পারে। আমাদের জন্য চিন্তা করবেন না। ফিলিস্তিনিদের কথা ভাবুন। তারা কষ্ট পাচ্ছেন। তারা যে গণহত্যা সহ্য করছে তা আমাদের এখানে যে কোনো ঝুঁকির চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে জোট বাহিনী হান্দালার সঙ্গে দুই ঘণ্টার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা জানায়, এ সময় বেশ কয়েকটি ড্রোনকে জাহাজটিকে প্রদক্ষিণ করতে দেখা যায়।
পরে যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করা হলেও গোষ্ঠীটি বলছে, ড্রোন তৎপরতা সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
এর আগে এক বিবৃতিতে বলা হয়, “হান্দালায় আমাদের ক্রুদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং কাছাকাছি বেশ কয়েকটি ড্রোন দেখা গেছে। এর অর্থ হতে পারে যে তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে বা আক্রমণ করা হয়েছে।
হান্ডালা ১৩ জুলাই ইতালীয় বন্দর সিরাকিউজ ত্যাগ করে এবং পরে ১৫ থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে গ্যালিপোলিতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে।
বেবি ফর্মুলা, খাবার ও ওষুধ বহনকারী জাহাজটি ২০ জুলাই ২১ জন বেসামরিক নাগরিক নিয়ে যাত্রা শুরু করে, যাদের সবাই নিরস্ত্র এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ও মানবিক আইনের অধীনে কাজ করে।
ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙতে এবং জীবন রক্ষাকারী ত্রাণ সরবরাহের জন্য আন্তর্জাতিক নাগরিক সমাজের মিশনের অংশ হিসাবে জাহাজটি বর্তমানে গাজা উপত্যকার পথে রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :