
বিজনেস ফাইল প্রতিবেদক
পরমাণু বিজ্ঞানী ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ড. এম শমসের আলী মারা গেছেন। শনিবার (২ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শমশের আলীর বড় ছেলে জেহান আলী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শোকবার্তায় বলা হয়, আজ রোববার জোহর নামাজের পর ধানমন্ডির ৭ এর বায়তুল আমান মসজিদে শমশের আলীর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তার মৃত্যুতে আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ছুটি থাকবে।
ড. পারভেজ সাজ্জাদ আকতারের শোক: দেশের কৃতি সন্তান বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, ইসলামী চিন্তাবিদ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সফল অধ্যাপক এবং সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য শ্রদ্বেয় খ্যাতিমান প্রফেসর এমিরেটস ড. এম শমশের আলীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন এফবিসিসিআই সাবেক পরিচালক ও রফিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মোঃ পারভেজ সাজ্জাদ আকতার।
শোক বার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, শমশের আলী ১৯৩৭ সালের ২১ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৪ সালে যশোর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্টিক ও ১৯৫৬ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৯ সালে অনার্স ও ১৯৬০ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৬১ সালে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থিওরেটিক্যাল নিউক্লিয়ার ফিজিক্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬১ সালে তিনি আণবিক শক্তি কেন্দ্রে সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৭০ সালে আণবিক শক্তি কমিশনের পরিচালকের দায়িত্ব পান তিনি। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
পরে ১৯৮২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন শমশের আলী। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব নেন। পরে আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফেরেন তিনি। তারপর ২০০২ সালে সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১০ সাল পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়েই কর্মরত ছিলেন তিনি।
অধ্যাপক শমশের আলী ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, তিনি বাংলা একাডেমির একজন ফেলো, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির আজীবন সদস্য এবং আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটিরও সদস্য ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :