
শীর্ষ ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বৃহস্পতিবার তাদের ইরানি সমকক্ষকে বলেছেন যে তেহরান যদি পরমাণু চুক্তিতে অগ্রগতি না করে তবে তারা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলি পুনরায় সক্রিয় করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকরা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে বলেছেন, গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তির দিকে দৃঢ় অগ্রগতি না হলে ‘স্ন্যাপব্যাক’ পদ্ধতি ব্যবহার করতে তারা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।
তারা ইরানকে বোঝানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করছে যে “ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে একটি শক্তিশালী, যাচাইযোগ্য এবং টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য দেরি না করে কূটনৈতিক পথে ফিরে আসা জরুরি”।
গত জুনে ইরানের সামরিক ও পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর থেকে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির অবস্থা নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা চলছে।
ইরানের ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির একটি ধারা, যা থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেছে, স্ন্যাপব্যাক মেকানিজমের মাধ্যমে তা না মানলে তেহরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের অনুমতি দেয়।
ইউরোপীয় কূটনীতিকরা আগস্টের শেষের দিকে অগ্রগতি চাইছেন কারণ অক্টোবরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
১৩ জুন ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার আগে এপ্রিল থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ওমানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কয়েক দফা আলোচনা করেছে। ওয়াশিংটনও ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে পরমাণু আলোচনা কার্যকরভাবে শেষ করে দেয়।
শত্রুতা শেষ হওয়ার পর থেকে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার ইচ্ছার ইঙ্গিত দিয়েছে, যদিও তেহরান বলেছে যে তারা পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকার ত্যাগ করবে না।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনির একজন উপদেষ্টা সোমবার বলেছেন, তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করার শর্ত দিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনো পরমাণু আলোচনা হবে না।
আপনার মতামত লিখুন :