
পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের খাপলুতে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে গাড়ি ভেসে গেছে। জুনের শেষ দিকে বর্ষা মৌসুম আসার পর থেকে আকস্মিক বন্যা, ধসে পড়া ভবন এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৮০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ওই এলাকার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল হামিদ জানান, সোমবার গিলগিট-বালতিস্তানের দিয়ামের জেলার একটি মহাসড়কে ভারী বৃষ্টিপাতের পর ভূমিধসে আটটির বেশি গাড়ি ভেসে যায়।
দিয়ামের জেলার জেলা পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল হামিদ বলেন, ‘তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১৫ জনেরও বেশি নিখোঁজ রয়েছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে অন্তত ১০টি গাড়ি চাপা পড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ সকাল ৬টা থেকে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে।
গিলগিট-বালতিস্তান সরকারের মুখপাত্র ফাইজুল্লাহ ফারাক নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।
সোমবারের বন্যায় ৫০টি বাড়ি, চারটি সেতু, একটি হোটেল, একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রধান মহাসড়কগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং যোগাযোগ সংকেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
“আটকে পড়া শত শত পর্যটককে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে; সরকারি দলগুলো ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করে পাহাড়ি রাস্তা থেকে তাদের সরিয়ে নেয় এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা জরুরি আশ্রয় ও সহায়তা দেয়।
অঞ্চলটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য, যা উঁচু পর্বতমালা, গভীর উপত্যকা এবং প্রশস্ত নদী দ্বারা চিহ্নিত।
বর্ষা মৌসুম দক্ষিণ এশিয়ায় তার বার্ষিক বৃষ্টিপাতের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ নিয়ে আসে এবং ভারত ও পাকিস্তানে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে।
বার্ষিক বৃষ্টিপাত কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং লক্ষ লক্ষ কৃষকের জীবন-জীবিকার জন্য অত্যাবশ্যক, কিন্তু ধ্বংসও বয়ে আনে।
জুনের শেষের দিকে একটি উঁচু নদীর তীরে আকস্মিক বন্যা থেকে বাঁচতে আশ্রয় নিতে গিয়ে অন্তত ১৩ জন পর্যটক ভেসে মারা যান।
২০২২ সালে মৌসুমি বন্যায় দেশের এক-তৃতীয়াংশ ডুবে যায় এবং ১ হাজার ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়।
আপনার মতামত লিখুন :