Agaminews
Dr. Neem Hakim

পাতাল রেলের রামপুরা স্টেশনটি বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন


admin প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৯, ২০২৫, ৬:১৪ অপরাহ্ন /
পাতাল রেলের রামপুরা স্টেশনটি বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন

পলাশ দাস, স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর – রুনী মিলনায়তনে (৯ আগস্ট ২০২৫) শনিবার সকাল ১১ টায় রামপুরা এলাকাবাসী তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে পাতাল রেলের রামপুরা স্টেশনটি (এম আর টি ওয়ান প্রকল্প) বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে রামপুর এলাকাবাসীর পক্ষে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন মো: মনোয়ার হোসেন। রামপুর এলাকাবাসীর পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ ফাইজুল ইসলাম তমাল, মো: খোরশেদ আলম রাসেল, আনোয়ার হোসেন, তাইজুল ইসলাম, শেখ জিয়াউদ্দিন আহমেদ, স্বপন আহমেদ প্রমূখ।
তারা বলেন – বাংলাদেশের পাতাল রেল প্রকল্প দেশের পরিবহন খাতে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় ভাবে রেল স্টেশন বাড়ানোর কোন যৌক্তিকতা নেই। এটা শুধু দেশের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়া আর কিছুই না। এমআরটি লাইন ১ এর এয়ারপোর্ট রুটে (পাতাল অংশ) মোট মিলে ১২টি স্টেশন। এরমধ্যে রয়েছে – ঢাকা বিমানবন্দর, ঢাকা বিমানবন্দর টার্মিনাল -৩, খিলক্ষেত নদ্দা, নতুন বাজার, উত্তর বাড্ডা, বাড্ডা, আফতাবনগর, রামপুরা, মালিবাগ, রাজার বাগ ও কমলাপুর। কিন্তু কাছাকাছি দেড় কিলোমিটারের মধ্যে আফতাবনগর, রামপুরা ও মালিবাগ এই তিনটি স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছেন। যার মধ্যবর্তী রামপুরা স্টেশন হতে দুই দিকেই সর্বোচ্চ ওয়াকিং ডিসটেন্স ৫ থেকে ৭ মিনিট, বাস ও রিকশায় আরো কম। তাই মধ্যবর্তী রামপুরা স্টেশনটি তৈরি করা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং দেশের অর্থনীতি ক্ষতি হওয়া ছাড়া আর কোন কিছুই না।
তার আরো বলেন- পাতাল রেলের বিষয়ে আমরা পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি বর্তমানে প্রতি কিলোমিটার এর নির্মাণ খরচ সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার অধিক পড়বে। সে ক্ষেত্রে একটি অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত স্টেশন তৈরি করা বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই না এবং স্টেশন নির্মাণ খরচ পড়বে আরও বেশি। এমতাবস্থায় আমরা রাজধানী রামপুরা বাসীর পক্ষ থেকে দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাছাকাছি দেড় কিলোমিটারের মধ্যে পাতাল রেলের (এমআরটি লাইন ১) তিনটি স্টেশন আফতাবনগর, রামপুরা ও মালিবাগ স্থাপনের ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী রামপুরা স্টেশন বাদ দিয়ে ২ টি স্টেশন স্থাপন করে প্রকল্পের ব্যায় কমানোর জোরালো দাবি জানাই । এমআরটি লাইন ওয়ানের রামপুরা স্টেশন নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত অধিগ্রহণের জমিগুলো যেহেতু বাণিজ্যিক জমি সেহেতু বাসস্থানের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং প্রস্তাবিত অধিগ্রহণের জমিগুলোর মধ্যে অনেকের জমি এর আগে অনেকবার গ্রহণ করা হয়েছে। রামপুরা ডিআইটি রোডে বাজার মূল্য এখন প্রতি শতাংশ জায়গার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। তাছাড়া প্রস্তাবিত অধিগ্রহণকৃত জমি মালিকদের অনেকেরই উচ্চমূল্যের ভূমি রয়েছে। অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন মালিকপক্ষ ন্যায্য মূল্য পাবে না তেমনি ভূমি অধিকরণ করা হলে ঐ সকল মালিকগণ ভূমিহীন হওয়ার পাশাপাশি অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি জানায় তারা। রামপুরায় অবস্থিত সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঋণসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ৫০০ চাকুরিজীবী সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়বেন। অনেকেরই বাড়ি ভাড়া দিয়ে সংসার চলে তারা নিরুপায় হয়ে পড়বেন। তারা তাদের বাপ – দাদার ভিটা ছেড়ে কোথাও যাওয়ার জন্য রাজি না। তারা তাদের আরো অনেক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পরিশেষে তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল মিনতি জানায় যেন রামপুরা স্টেশনটি বাদ দিয়ে, তাদের সকল সমস্যার নিষ্পত্তির পাশাপাশি তাদের প্রতি সুবিচার করা হয় এবং এমআরটি লাইন বাস্তবায়ন করা হয়।