Agaminews
Dr. Neem Hakim

ফসলি জমি জবরদখলের চেষ্টায় কটিয়াদীতে আইনজীবীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা


Ekattor News প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ৪:২৮ অপরাহ্ন /
ফসলি জমি জবরদখলের চেষ্টায় কটিয়াদীতে আইনজীবীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ:

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পাঁচগাতিয়ায় ফসলি জমি দখলের চেষ্টা, পুকুর খনন এবং ফলজ ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে এক আইনজীবীসহ চারজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মতিউর রহমান আকন্দ বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন-উপজেলার পাঁচগাতিয়া মধ্যপাড়ার মৃত আ. রাজ্জাকের ছেলে ফেরদৌস আকন্দ মিল্লাত (৫৫), ফেরদৌস আকন্দ মিল্লাতের ছেলে তাসনিম আলম আকন্দ (৩০) মৃত ছোবেবত আলীর মেয়ে ফুলবানুসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আচমিতা মৌজায় বিএস ৭০ ও ১১৯ নং খতিয়ানভুক্ত বিএস ৬৬ দাগে ৫০ শতাংশ, ৬৮ দাগে ৫২ শতাংশ এবং ৬৯ দাগে ১১ শতাংশসহ মোট ১ একর ১৩ শতাংশ জমির মালিকানা পাঁচটি দলিল (নম্বর: ৮১০৯/১৯৯২, ১৫১৭/১৯৯৮, ২০৪৬/১৯৯২, ৬৮৮৩/২০০১ ও ১০৭১/২০০২) এবং পৈত্রিক বণ্টননামা দলিল (৭৩৪২/২০১৪) মূলে লাভ করেন মো. মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে নকশাভুক্ত ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়, হঠাৎ করে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে ওই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে লাল নিশান টানিয়ে দখলের চেষ্টা করেন এবং এক্সাভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে পুলিশের বাধায় ভেকু সরিয়ে নেওয়া হলেও বর্তমানে জমির প্রকৃত মালিককে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা জমির পাশে ঝুপড়ি তৈরি করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছেন এবং জমিতে গেলে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন।

গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা শাহেদ আলী বলেন, মতিউর রহমানের বাবার বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি ছিল। পূর্বে ভাই–বোনদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে কোনো বিরোধের কথা শোনা যায়নি। তারা সবাই শিক্ষিত হওয়ায় ছোলেনামার মাধ্যমে পারিবারিকভাবে সম্পত্তি বণ্টন সম্পন্ন করেন। তবে মতিউর রহমানের এক ভাই ফেরদৌস আকন্দ জুয়ায় আসক্ত হয়ে অভাব-অনটনের কারণে বাড়িসহ বিভিন্ন দাগের জমি বিক্রি করে দেন। বর্তমানে তার তেমন কোনো সম্পত্তি আছে বলে গ্রামবাসীর জানা না।

অপরদিকে মতিউর রহমান বাবার সম্পত্তির পাশাপাশি ভাইদের কাছ থেকেও জমি ক্রয় করায় তার সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।
অপর স্থানীয় বাসিন্দা আ. সাত্তার বলেন, তাসনিম আলম আকন্দ পেশায় আইনজীবী হলেও এলাকায় তার আচরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। ছাত্রজীবন থেকেই সেনেশায় জড়িত ছিল বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তার বাবাও জুয়ায় আসক্ত হয়ে সম্পদ হারিয়েছেন বলে জানা যায়। স্থানীয়দের ধারণা, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তাকে এখানে বিরোধ সৃষ্টি করতে পাঠানো হয়েছে। এর আগেও একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। অর্থের জোগান বন্ধ হলে তিনি এলাকা ত্যাগ করেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া উকিল সাহেব নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সবসময় দা, কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আইনজীবী তাসনিম আলম আকন্দ কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার চাচা মরহুম বােরহান উদ্দিন আকন্দ ও মুনসুর আকন্দের ১৫ শতাংশ জায়গাসহ আমাদের বাড়ির পাড় থেকে তিনি ১১ ফিট জায়গা কেটে নিয়েছে। তাই আমি একজন আইনজীবী হিসেবে আমার অন্যান্য চাচা ও চাচাতো ভাইয়েরা আমাকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির মাধ্যমে খরচ দিয়ে এখানে পাঠিয়েছে তাদের জায়গাটা উদ্ধার করে দিতে। আমি প্রথমে এখানে এসে জায়গাটা নির্ধাণ করে এলাকার মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য লাল নিশান টানিয়ে ভেকু দিয়ে ১১ ফুট জায়গা ভরাটের মাধ্যমে সংস্কার করতে গেলে বড় চাচা মতিউর রহমান আকন্দ আমাকে বাধা দেয় এবং জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশ ডাকে। পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। আমি আইনজীবী হিসেবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাই ভেকু মেশিন জমি থেকে সরিয়ে ফেলি। এখন চাচা যেহুতু ঢাকা বার এসোসিয়েশন ও প্রেসক্লাবে অভিযোগ দিয়েছে এখন চাচার বিরুদ্ধে একশানে যেতে হবে।

এ ব্যাপারে আচমিতা ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, জমিটি নিয়ে চাচা-ভাতিজার মধ্যে বিরোধ চলছে। অভিযুক্ত পক্ষ কাগজপত্র দেখাতে না পারলেও লাল নিশান টানিয়ে দখলের চেষ্টা করেছে। স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনজীবী তা মানতে রাজি হননি। এ ঘটনায় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।