
বিজনেস ফাইল প্রতিবেদক
অবশেষে এফবিসিসিআই তথা সারাদেশের ব্যবসায়ীদের আস্থার প্রতীক দৈনিক বিজনেস ফাইলের প্রকাশিত সংবাদই সত্যি প্রমাণিত হলো। গত ২৯ জুন ‘এফবিসিসিআই নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে দেড়-দু’মাস!’ শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশ করে দৈনিক বিজনেস ফাইল। মাত্র দুদিন পরই এফবিসিসিআই পরিচালনা মেয়াদ আরো ৪৫ দিন বৃদ্ধি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার ১ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উপসচিব চৌধুরী সামিনা ইয়াসমিন স্বাক্ষরে (স্মারক নং- স্মারক নম্বর: ২৬.০০.০০০০.০০০.১৫৬.৩৫.০০১৬ .২১.১৪৯, তারিখ- ১ জুলাই ২০২৫, সূত্র: চেয়ারম্যান, নির্বাচন বোর্ড এফবিসিসিআই) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়, বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআই পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন (২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭) এর সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানিয়েছে। উক্ত আবেদনসমূহে সময় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ উল্লেখ করা হয়েছে: (ক) এফবিসিসিআই এর অধিভ‚ক্ত চেম্বার ও এসোসিয়েশনগুলোর আরজেএসসির অনলাইন রির্টান দাখিলের স্বার্থে নির্বাচনের সময় বৃদ্ধি করা, (খ) বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী চেম্বারের আয়-ব্যয় হিসাব ও অডিট রিপোর্ট দাখিল করা, (গ) এসোসিয়েশন এর ডিভিসিসহ অডিট সম্পন্ন করা এবং তা আরজেএসসিতে জমা দেয়া নির্বাচনে অর্ন্তভুক্তি বাধ্যতামূলক করা।
০২। এমতাবস্থায়, চেয়ারম্যান, নির্বাচন বোর্ড, এফবিসিসিআই এর স্বাক্ষরিত পত্র, বিভিন্ন সংগঠনের আবেদন এবং এফবিসিসিআই এর সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান অনুযায়ী এফবিসিসিআই পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন (২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭) এর সময় ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিন বৃদ্ধি করাসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

বিজনেস ফাইলে প্রকাশিত সংবাদ:
ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও নির্বাচন অধিক গ্রহণযোগ্যতার স্বার্থে: ‘এফবিসিসিআই নির্বাচন পিছিয়ে
যেতে পারে দেড়-দু’মাস!’
এফবিসিসিআই নির্বাচন অধিক গ্রহণযোগ্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে সময় পিছিয়ে অর্থাৎ দেড়-দু’মাস পরে হতে পারে বলে আভাস মিলেছে। প্রায় দু-যুগ পরে সভাপতিসহ ঊর্ধ্বতন পদগুলোতে সরাসরি নির্বাচনকে খুবই ইতিবাচকভাবে দেখছেন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এফবিসিসিআই নির্বাচন ২০২৫-২০২৭ ইং ঘোষিত সিডিউল অনুযায়ী ডিবিসি (এবারই প্রথম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে) সহ কিছু জরুরী বিষয় বর্তমানে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে (২ জুলাই -২০২৫) সম্পন্ন করা অধিকাংশ এসোশিয়েশন এবং চেম্বারের পক্ষে সম্ভব নয় এমনটিই বলছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
এখন পর্যন্ত চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের ৩০% সংগঠনও তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেনি।
যেহেতু এবার সরাসরি নির্বাচন হবে তাই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে অধিকাংশ জিবি সদস্যের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে বর্তমান সভাপতি প্রার্থীরা সরকারের উচ্চ মহলে বিষয়টি জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সভাপতি প্রার্থী বলেন দৈনিক বিজনেস ফাইল কে বলেন নির্বাচনে জীবী সদস্যদের (পার্টিসিপেশন) অংশগ্রহণ বাড়াতে এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র নেতারা মাহবুবুর রহমান, মীর নাসির হোসেন, আবুল কালাম আজাদও এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন। একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রটি বলছে জাতীয় নির্বাচনের আগে অংশগ্রহণমূলক জমজমাট
এফবিসিসিআই নির্বাচন দিয়ে সরকারও জনমনে সংস্কার বিষয়ে একটি ইতিবাচক ধারনা (পজিটিভ কনসেপ্ট গ্রো) করতে চান। এ নির্বাচনে একটা বিশাল আস্থা তৈরি করতে পারলে জাতীয় নির্বাচনে এর ভালো প্রভাব পড়বে যেটার ক্রেডিট পুরোপুরি আসবে বর্তমান সরকারের ঘরে।
সূত্রটি আরো জানায়, কয়েকদিনের মধ্যেই সরকারের সর্বোচ্চ মহল এ ব্যাপারে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। বর্তমানে সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টির ভালোমন্দ বা জনমত অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। দেশের প্রধান ব্যবসায়ী পার্লামেন্ট খ্যাত এফবিসিসিআইতে এক্ষেত্রে প্রশাসকের মেয়াদ বৃদ্ধিসহ নির্বাচন দেড় থেকে দু’মাস পেছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন এমন প্রায় সব প্যানেল থেকে ডিবিসি বিষয় সমাধানের লক্ষ্যে সময় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনার জন্য বার বার নির্বাচন বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়েছে। সভাপতিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে সরাসরি নির্বাচন দেয়ায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন একাধিক ব্যবসায়ী নেতা। এবারের আসন্ন নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্যানেল নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জিবি সদস্যদের অভিমত।
বর্তমান সিডিউলে নির্বাচন আগামী ৭ সেপ্টেম্বর। নির্বাচন বোর্ড চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকবিজনেস ফাইলের প্রতিবেদনই সত্যি হলো
ফের ৪৫ দিন বাড়ালো এফবিসিসিআই
পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ
আপনার মতামত লিখুন :