
বিশেষ প্রতিনিধি
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্বে বসে আবারও লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে শেখ হাসিনার আমলের প্রতাপশালী কর্মকর্তা ড. বেগম সামিয়া সুলতানা। ছাত্রলীগের নেত্রী থাকা এবং সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক ও মতিয়া চৌধুরীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদে শেখ হাসিনার আমলে পদোন্নতি পায় প্রকল্প পরিচালক পদে। ওই সময়েই ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ মেলে কৃষি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিট রিপোর্টে। দুর্নীতির শাস্তির পরিবর্তে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই উল্টো রহস্যজনকভাবে পেয়ে যায় পদোন্নতি। শেখ হাসিনা পালালেও পালায়নি ফ্যাসিস্টের দোসর খ্যাত তৎকালীন পরিচালক ড. বেগম সামিয়া সুলতানা। বরং নিজের দুর্নীতি ঢাকতে মব সৃষ্টির মাধ্যমে মহাপরিচালকের পদ হতে মোঃ জালাল উদ্দিনকে অপসারণে নেতৃত্ব দেয় অভিযুক্ত এই কর্মকর্তা।
মোঃ জালাল উদ্দিনকে অপসারণের পরে মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়েই দুর্নীতির মহোৎসব শুরু করে দেয় ড. বেগম সামিয়া সুলতানা। এখন এই মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ও পরিচালক নিজেই। নিজের লোকজন দিয়েই সাজিয়ে নিয়েছেন নিজের অপরাধ রাজ্য। সম্প্রতি ৩৭ জন অনিয়মিত শ্রমিক নিয়োগেও অভিযোগ পাওয়া গেছে বিধি বহির্ভূত অনিয়মের। মহাপরিচালকের সংযুক্ত কর্মকর্তা মোঃ ফারুক হেসেনের ইসবপুর ইউনিয়ন হতেই নিয়োগ দিয়েছেন ৯ জনকে।
কৃষি ও পরিবেশ অডিট অধিদপ্তর-এর পরিচালনায় মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনসিস্টটিউট-এর ২০২২-২০২৩ নিরীক্ষা বছরের হিসাব সম্পর্কিত কমপ্লায়েন্স অডিট ইন্সপেকশন রিপোর্টে উঠে এসেছে ব্যাপক দুর্নীতির ফিরিস্তি। এসময়ে পরিচালক হিসেবে এসব দুর্নীতি করেন বেগম সামিয়া সুলতানা। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে বেড়ে ওঠা গল্পের ইতিহাস হিসেবে জনা যায়, চাঁপাই নবাবগঞ্জে জন্ম নেওয়া বেগম সামিয়া সুলতানা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিয়হে ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নকালে যুক্ত হয় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। ১৯৯৮ সালে বাকৃবি ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ প্যানেলে সুলতানা রাজিয়া হল সংসদে সদস্য নির্বাচিত হন। শুরু হয় শেখ হাসিনার সাথে সরাসরি যোগাযোগ ও ঘনিষ্টতা। চাকরী জীবনে শেখ হাসিনার ঘনিষ্টজন হিসেবে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন হাসিনার পুরো শাসনকাল। নিজেকে জাহির করতেন “আমি শেখ হাসিনার সাথে রাজনীতি করা লোক” বলে। ফেসবুক প্রোফাইলে ব্যবহার করতেন শেখ হাসিনা তার সরকারে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে তোলা ছবি। এসব সরিয়ে দিয়ে এখন সেজেছেন ছাত্রজনতার গণঅভুত্থানের পক্ষের শক্তি হিসেবে। তার বিরুদ্ধে পাহাড়সম অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “সরকার আমাকে ৫ই আগস্ট পরবর্তী ডিজি বানিয়েছে। কর্মজীবনে আমি পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করেছি। যারা এটা পছন্দ করছে না, প্রতিষ্ঠানটিকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারাই এখন এসব কিছু সামনে আনছে”।
আপনার মতামত লিখুন :