
একাত্তর নিউজ ডেস্ক:
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। কিছু চক্রান্তকারী পেছন থেকে দেশকে আবার অন্ধকারে ঠেলে দিতে তৎপর। এ অবস্থায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না হয় এবং চক্রান্তকারীদের ফাঁদে না পড়ি। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ঠাকুরগাঁওয়ের মানব কল্যাণ পরিষদ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাফেজ আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী প্রমুখ। বিএনপি মহাসচিব জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ, ওসমান হাদি, ওয়াসিমসহ অন্য শহীদদের স্মরণ করেন এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, আসন্ন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচন ভাঙার চেষ্টা চলছে, কিন্তু তা যাতে কেউ সফল না হতে পারে সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক দেশে প্রত্যাবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, তার আগমনে ঢাকার রাজপথে স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাগম হয়েছে। তারেক রহমানের বক্তব্যে বারবার ইসলাম ও আল্লাহর কথা উঠে এসেছে, যা আলেম সমাজের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। বিএনপি শান্তি চায় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে প্রত্যেকে নির্বিঘ্নে এবাদত ও ধর্মচর্চা করতে পারবেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ রচিত হবে।
ধর্মীয় নেতাদের কল্যাণে বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতায় গেলে খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী প্রদান করা হবে। ধর্মীয় উৎসবে বিশেষ ভাতা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ১৯৯৩ সালের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম সারা দেশে বিস্তার, ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টকে শক্তিশালী করা এবং তাদের সামাজিক-রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব সুবিধা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্য ধর্মের উপাসনালয়ের প্রধানদের জন্যও সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
আপনার মতামত লিখুন :