
একাত্তর নিউজ ডেস্ক:
সাপ্তাহিক হাটের দিনে মূল সড়কের ওপর ৩ শ মিটার জুড়ে আছে রিকশা ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড। বরগুনার বেতাগী পৌর শহরের ‘টাউন ব্রিজ’ এর পূর্ব পাশে সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে সড়কে দুপাশ অবৈধভাবে দখল করে গড়ে উঠেছে রিকশা-অটোরিকশা স্ট্যান্ড। ফলে পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে মূলসড়ক থেকে নেমে চলাচল করতে হচ্ছে। রিকশা-অটো চালকদের দাবি তাদের জন্য আলাদা কোন স্ট্যান্ড না থাকায় হাটের দিনগুলোতে যানজটে পড়তে হচ্ছে।
পৌর শহরে সরেজমিনে দেখা যায়, বেতাগী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে সড়ক ও পৌর শহর বাজারে প্রবেশদ্বারে ‘টাউন ব্রিজ’ এর পূর্ব পাশে সড়কের অংশে শুরুতেই এক পাশে ভাসমান ফেড়িওয়ালাদের দোকান, অন্য পাশে সড়কে ওপর সারি সারি রিকশা ও অটোরিকশা দাঁড়িয়ে রয়েছে। সাপ্তাহিক হাটের দিনগুলোতে শুরু হয় কাঁচা শাক-সবজির বাজার। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আর রিকশাগুলো যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। টাউন ব্রিজের ওপর ভাসমান ফেরিওয়ালা ও গ্রাম থেকে ছুটে আসা মানুষদের শাক-সবজির কাঁচা বাজারে সড়কের ওপর দাড়িয়ে কেনাবেচা করতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষদের।
জানা গেছে, বেতাগী পৌর শহরে সপ্তাহের শনিবার ও বুধবার সাপ্তাহিক হাট বসে। হাটের দিনগুলোতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং পাশ্ববর্তী কাঁঠালিয়া, মির্জাগঞ্জ, নিয়ামতি থেকে লোকজন কেনাবেচা করতে আসে। কিছু সময় পরপর সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। যানজট রিকশা অটোরিকশা আটকে থাকায় মূল সড়ক থেকে নেমে হাঁটতে গিয়ে গা ঘেঁষে চলে যাওয়া রিকশা কিংবা লেগুনার ভয়ে আঁতকে উঠছেন অনেকে। কেহ কেহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এভাবে ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে চলাচল করছেন জনসাধারণ।
সরেজমিনে দেখা গেল, পৌর শহরের ‘টাউন ব্রিজের’ পূর্ব পাড় সড়কের ৩০০ মিটার জুড়ে সারি সারি অটোরিকশা, রিকশা দাড় করে চালকরা যাত্রীর অপেক্ষায় থাকেন ঘন্টার পর ঘন্টা। এসময় চলাচলকারী একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হলে তাঁরা বলেন, হাটের দিনে গ্রাম থেকে সড়কের দুই পাশে কাঁচা শাক-সবজি বাজার থাকায় চলাচলে অনেক সমস্যা হচ্ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ যানজট হয় সবচেয়ে বেশি। তখন অনেক সময় আটকে থাকতে হয়।বেতাগী সরকারি কলেজ গেট এলাকার বাসিন্দা আলামিন বলেন, অটোরিকশা সড়কে দাড় করানো থাকার কারণে চলাচলে অনেক সমস্যা হচ্ছে।রিকশাচালক বিমল পরামানিক বলেন, রিকশা ও অটোরিকশার কোন স্ট্যান্ড নেই। এ কারণে চালকরা সড়কে ওপর রিকশা দাড় করে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করেন।কাঁচাবাজার ও ভাসমান ফেড়িওয়ালাদের দোকান থেকে মূল সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে লোকজন বাজার করে।
বেতাগী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও কালের কন্ঠ’র উপজেলা প্রতিনিধি সভাপতি স্বপন কুমার ঢালী বলেন, হাঁটের দিনগুলোতে যানজটে পড়তে দেখা যায়। তবে রিকশা ও অটো চালকদের জন্য আলাদা স্ট্যান্ড থাকা দরকার।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন বলেন, রিকশা ও অটো চালকদের কোন অপরাধ নেই। আলাদা স্ট্যান্ড থাকলে এই সমস্যা হতো না। তাদের আলাদা স্ট্যান্ড করার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক হরেকৃষ্ণ অধিকারী বলেন, পৌরসভার মেয়র ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার মাধ্যমে যানজট নিরসনের বিষয়টি সমাধান করা হবে। তিনি আরো বলেন, রিকশা, অটোরিকশা, নসিমন ও যাত্রীবাহী পিকআপ রাখার জন্য আলাদা স্ট্যান্ড করার জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে। জমি পেলে তাদের জন্য স্ট্যান্ড করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :