Agaminews
Dr. Neem Hakim

বেলকুচি উপজেলা চত্বরে ও আশেপাশে গাছের ডালে বাসা বেধেঁ নিলো অতিথি পাখি ।


Ekattor News প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫, ৪:২৩ অপরাহ্ন /
বেলকুচি উপজেলা চত্বরে ও আশেপাশে গাছের ডালে  বাসা বেধেঁ নিলো অতিথি পাখি  ।

জাহিদুল হক আজিম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

শীতের আগমনী আসার আগেই অতিথি পাখিদের আগমন। অতিথি পাখিদের দেখতে সাদা যখন কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জ জেলায় বেলকুচিতে বেলকুচি উপজেলা পরিষদ এলাকায় ও রাস্তার আশেপাশে গাছের ডাল পালায় অতিথি পাখির বাসা দেখা যায়। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শত শত অতিথি পাখির উড়াউড়ি ও কিচিরমিচিরে পুরো পরিবেশ যেন এক অন্যরকম রূপে সেজে উঠেছে। প্রকৃতির সঙ্গে জীববৈচিত্র্যের এ মিলন বন্ধন এখন এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণ।

স্থানীয়রা জানায়, গত শীতের মধ্যে আসছিল এখন দেখা যাচ্ছে যে শীতের আগেই আগমন ঘটেছে গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর অতিথি পাখির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে শামুকখোল প্রজাতির পাখির ঝাঁক সকাল-বিকেল আকাশে ডানা মেলে উড়িয়ে বেড়ায় এই মনের মধ্যে তো আর কিছু দেখতে প্রতিদিন আসে পাশে গ্রাম থেকে মানুষের ভিড় । এ মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষজন ভিড় করছেন উপজেলা চত্বরে ও আস পাশে। অনেকে ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যা এলাকাজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

শুধু স্থানীয় নয়, বাইরের দর্শনার্থীরাও অনেকে ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে এখন ছুটে আসছেন বেলকুচি উপজেলা চত্বরে। পাখিদের একসঙ্গে ঝাঁক বেঁধে উড়ার দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। ফলে উপজেলা চত্বর এখন পাখিপ্রেমী মানুষের কাছে এক নতুন পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

বেলকুচির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনা নদী অতিথি পাখিদের খাদ্যের প্রধান উৎস। বিশেষ করে শামুকখোল সহজেই নদী ও আশপাশের জলাশয় থেকে শামুক সংগ্রহ করতে পারে। এলাকাবাসীর দাবি, এখানে শিকারিদের তৎপরতা নেই বললেই চলে। ফলে নির্ভয়ে আশ্রয় নিতে পারছে অতিথি পাখিরা।

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন,
“গত বছরের তুলনায় এ বছর অতিথি পাখির সংখ্যা সত্যিই বেড়েছে। যমুনা নদী থাকার কারণে খাদ্যের কোনো অভাব হয় না। তাছাড়া এখানে কেউ পাখি শিকার করে না। এসব পাখি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে, তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।”

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, অতিথি পাখিদের টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও জরুরি। তারা চান, প্রকৃতির এই অনন্য সৌন্দর্য যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়।

অতিথি পাখির কারণে প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের সচেতনতার সমন্বয়ে বেলকুচি উপজেলা এলাকায় এখন অতিথি পাখির নিরাপদ আবাসভূমি এবং সম্ভাবনাময় একটি নতুন পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সবাই আত্মপ্রকাশ করছেন ।