Agaminews
Dr. Neem Hakim

মধ্য জুলাইয়ে আন্দোলনের স্পৃহা বাড়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা


Ekattor News প্রকাশের সময় : জুলাই ১৬, ২০২৫, ১২:১০ অপরাহ্ন /
মধ্য জুলাইয়ে আন্দোলনের স্পৃহা বাড়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা

মধ্য জুলাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেমে যাওয়া আন্দোলনে নতুন মাত্রা দেয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের দুর্গ হয়ে উঠে সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি ও নিউমার্কেট এলাকা। ঢাকার প্রথম শহিদ হিসেবে প্রাণ দেয় কলেজ পড়ুয়া ফারহান ফাইয়াজ। সেসব দুঃসহ স্মৃতি এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে তরুণরা। তাদের চাওয়া তরুণদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই হোক নতুন বন্দোবস্ত।

পরীক্ষা না দিয়েও উত্তীর্ণ ফাইয়াজ। উচ্চশিক্ষার জন্য হয়তো বিদেশে যাওয়া হয়নি, কিংবা হাতে কোনো সনদ আসেনি। কিন্তু তার রক্তেই তো ফ্যাসিবাদকে হারানোর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলো খোদ বাংলাদেশ। বাবার আক্ষেপ আর বোনের অবাক অপেক্ষা ছাপিয়ে যে বিজয়, সেটিই তো জুলাই।

শিক্ষার্থী ফারহানের মৃত্যুর খবর জানিয়ে সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষক নাজিয়া খান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন. ‘তারা আমার সন্তান ফারহান ফাইয়াজকে মেরে ফেলেছে। তার এখনও ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি। আমি এ হত্যার বিচার চাই। সে ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেছে। আমি চাই আপনার সবাই আওয়াজ তুলুন। সংশ্লিষ্টদের জন্য জানাচ্ছি, ফারহান আমার বায়োলজিক্যাল ছেলে না কিন্তু সে আমার কাছে আমার নিজের সন্তানের চেয়ে কম নয়।’

টেন মিনিট স্কুলের প্রধান প্রশিক্ষক ও ইংরেজি শিক্ষক মুনজেরিন শহীদ তার পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার ছাত্র ফারহান আর নেই।  কিছুদিন আগে তার সঙ্গে আমি গ্রামার বিষয়ক একটি ভিডিও তৈরি করেছিলাম। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। তার এখনো ১৮ বছরও পূর্ণ হয়নি।’

বছর খানেক আগে আজকের এ দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন যখন থমকে গেল, ১৬ জুলাইয়ের সকালটা ছিল এমন যে, শহুরে ট্যাগ ভেঙে রাজপথ তখন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের দখলে।

পরনে নিজস্ব পোশাক আর গলায় পরিচয়পত্র। তৎকালীন ছাত্রলীগ, যুবলীগের বিরুদ্ধে কেবল লাঠি আর ইট দিয়েই প্রতিরোধ গড়ে তোলে ১৮ না পেরোনো তরুণেরা।

তখনকার পুলিশের নিরবতা আর ছাত্রলীগের নৃশংসতার বিপরীতে প্রতিবাদ জারি রাখে কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদেরই একজন সাদমান।

মধ্য জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কলেজের শিক্ষার্থীরাই সামনে থেকে আন্দোলন চালিয়ে নেয়। দুর্গ গড়ে তোলে সাইন্সল্যাব, ধানমন্ডি ও নিউমার্কেট এলাকায়।

হামলা ও মামলার সেসব দুঃসহ স্মৃতি এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন কেউ কেউ। তবে যারা হারিয়েছেন প্রিয়জন, তাদের চাওয়া দ্রুত দৃশ্যমান হোক বিচার। ফারহান ফাইয়াজরা যে আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্ন নিয়ে জীবন দিয়েছেন তার বাস্তবায়নই হোক নতুন বন্দোবস্ত।