Agaminews
Dr. Neem Hakim

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে জলাবদ্ধতায় আলু আবাদে অনিশ্চয়তায় কৃষক


admin প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২২, ২০২৫, ৩:৩২ অপরাহ্ন /
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে জলাবদ্ধতায় আলু আবাদে অনিশ্চয়তায় কৃষক

 

একাত্তর নিউজ ডেস্ক:

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হাজার হাজার হেক্টর জমিতে এখনো বর্ষার পানি আটকে আছে। এতে আলু চাষে ব্যাপক বিড়ম্বনায় পড়েছেন কৃষকরা। নভেম্বর মাস শেষ হতে চললেও এবং অগ্রহায়ণের প্রথম সপ্তাহ পার হলেও বর্ষার পানি এখনো জমি থেকে নামেনি। ফলে আলু বপন নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে এ অঞ্চলের কৃষক সমাজ।

চাষিদের তথ্য অনুযায়ী, বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর বাংলা কার্তিক মাসের মধ্যভাগ থেকে জমি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়। অগ্রহায়ণ মাসের শুরু থেকেই আলু বপনে নেমে পড়েন কৃষকরা। জেলা জুড়ে বিশাল এই কৃষিকর্মযজ্ঞে মাঠে কাজ করতে বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত নারী-পুরুষ শ্রমিক এসে থাকেন। কিন্তু জমিতে পানি থাকায় কৃষকরা চাষাবাদ শুরু করতে পারছেন না; এতে বেকার হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষিশ্রমিক।

জমি থেকে বর্ষা ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের খাল ও নালা দখল করে অবৈধ ভরাট, স্থাপনা নির্মাণ এবং ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

এর ফলে উপজেলার প্রায় ৫ হাজার হেক্টর কৃষিজমি বছরের ৬–৭ মাস পানির নিচে থাকে। তিন ফসলি জমি হওয়া সত্ত্বেও কৃষকরা বছরে শুধু একবার রবি মৌসুমে আলু ও ধান উৎপাদন করতে পারেন; বাকিটা সময় এসব জমি ডুবে থাকে পানিতে। সমস্যা সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার পাখিদিয়া, হাড়িদিয়া, বনসেমন্ত, কালুরগাঁও ও গাঁওদিয়া ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, বিলে আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। পানি নিষ্কাশনের খাল ও নালাগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামার সব পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, লৌহজং উপজেলায় মোট ৭ হাজার ৮৫৮ হেক্টর আবাদি জমিতে আলু, ধান, সরিষা, বাদামসহ বিভিন্ন রবি ফসলের আবাদ হয়ে থাকে। কিন্তু পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় প্রান্তিক চাষিরা অত্যন্ত চিন্তিত। আবাদ মৌসুম শুরু হলেও বর্ষার পানি না কমায় তারা সময়মতো আলুসহ বিভিন্ন রবি ফসল বপন করতে পারছেন না। উঁচু জমিতে স্বল্প পরিসরে সবজি চাষ শুরু হলেও অধিকাংশ জমি পানির নিচে থাকায় মূল আবাদ কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে।

উপজেলায় হাজার হাজার হেক্টর জমিতে বর্ষার পানি আটকে থাকায় ফসল উপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ—বিলের পানি প্রবাহের খালগুলো দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। জমি-সংলগ্ন খাল ও নালায় পলি জমে সেগুলো সরু হয়ে পড়েছে। ফলে পানি নিষ্কাশনে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় এ বছর আলু আবাদে বিড়ম্বনা এবং আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা করছেন কৃষকরা। তাদের আশঙ্কা, আলু চাষ ২ মাস দেরিতে শুরু হলে উত্তোলনের সময় বৃষ্টির মৌসুম চলে আসবে, এতে আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

কালুরগাঁও গ্রামের কৃষক মো. জসিম শেখ বলেন, জমি থেকে বর্ষার পানি নামার সব পথ দখল ও ভরাট করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই এ বছর আলু আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরে হয়তো গো-খাদ্য (ঘাস) রোপণ ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

হাড়িদিয়া গ্রামের কৃষক মেরাজ শেখ বলেন, বিলের পানি প্রবাহের রাস্তা ভরাট হয়ে গেছে, তাই বর্ষার পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। বিলে আমার ৫ একর আলু জমি এখনো পানির নিচে। এ বছর আলু চাষ করতে পারব কি না, তা নিয়েই শঙ্কায় আছি।

প্রান্তিক কৃষক জয়নাল বলেন, আমি জমি বর্গা নিয়েছি আলু আবাদ করার জন্য, কিন্তু পানি না কমায় কিছুই করতে পারছি না। অন্য বছর এই সময়ে কাজে ব্যস্ত থাকতাম, এবার পানি না কমায় ঘরে বসে আছি।

গাঁওদিয়া, পাখিদিয়া, হাড়িদিয়া, কালুরগাঁও, ফলপাকর, আপর ও বনসেমন্ত বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ নুরপুর–কালুরগাঁও খাল এবং বনসেমন্ত খাল। এসব খাল মাটি ভরাট করে দখল হয়ে গেছে। কৃষকদের দাবি—খালগুলো পুনঃখনন করলে পানি নিষ্কাশনে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাসান-উদ দৌলা বলেন, উপজেলায় মোট ৭ হাজার ৮৫৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়। চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ১০৭ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে বিএডিসির সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে, তবে এ বছর কোনো বরাদ্দ নেই বলে জানিয়েছে।