
বিজনেস ফাইল প্রতিবেদক
প্রতিবারের মত এবারও গতকাল (৯ জুন ২০২৫) রাজধানীর বনানী ডিওএইচএসস্থ বরেণ্য ব্যবসায়ীনেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে ছিল সীমিত পরিসরে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় অনেক নেতাই এ আয়োজনে অংশ নেন। তবে আয়োজনটা ছিল সাদামাটা, ছিলনা কোনো ব্যানার, আলোচনা সভা বা সংগীতের মূর্ছনা। বিষয়টা ছিল দেখা-সাক্ষাৎ বা খোঁজ খবর নেয়া। রাত ৮ টা থেকেই আসা-যাওয়া শুরু হয় ব্যবসায়ীদের। রাত দশটার দিকে উপস্থিত সবাই তাদের প্রিয়নেতা মোহাম্মদ আলীকে বলেন নির্বাচন নিয়ে কিছু একটা বলেন। সবাই চুপ।কেউ কোনো কথা বলছেন না।মোহাম্মদ আলী বললেন আল্লাহ আমাকে ভালো রেখেছেন, সবাইকে তিনি যেন ভালো রাখেন এ দোয়া করছি। পরের ঘটনা যেন আরব্যরজনীকেও যেন হার মানায়। সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কামাল উদ্দিন আহমেদ বলে উঠলেন আজ যে খাবার খেলাম এটা তো আলী ভাই প্রেসিডেন্ট দাঁড়াবেন এই উপলক্ষে আমি জানি। ত্বরিত গতিতে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজামউদ্দিন রাজেশ বললেন আমি তিন জনের নাম প্রস্তাব করছি। প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. হেলাল উদ্দিন আর ভাইস প্রেসিডেন্ট গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী খোকন। আব্দুল ওয়াহেদ বললেন হেলাল এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রার্থী হবে। তবে খন্দকার রুহুল আমিনকে আমি সবদিক থেকে সহায়তা করবো। শফিকুল ইসলাম ভরসা সাবেক পরিচালক কাউসার আহমেদ কে দেখিয়ে বলেন ও আমার ভাতিজা, আপনারা ওকে একটা ভালো প্যানেলে নিয়েন, এটা আমার অনুরোধ।

হাবিব উল্লাহ ডন, নিয়াজ আলী চিশতী বলেন মোহাম্মদ আলী ভাই নির্বাচন করবেন কিনা আমরা জানতে চাই?
তিনিই ফেডারেশনে এ মুহূর্তে সবচেয়ে পুরনো ব্যক্তি।তিনি ৪০ বছর ধরে ফেডারেশনে আছেন, আমাদের অনেককেই ধরে রেখেছেন, আমাদেরকে এগিয়ে দিয়েছেন। আমরা তাঁর ঋণ পরিশোধ করতে চাই। রাজেশ আবার বলেন এবার আর ক্যান্ডিডেট কে?
নিজাম, ড.পারভেজ আর জাকির হোসেন নয়নের নাম শুনেছি। রাজেশের চোখ পড়তেই গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন আমি নির্বাচন করব না।
আমিন হেলালী, সরকার সালাউদ্দিন বলেন যারা যারা মোহাম্মদ আলীকে সভাপতি দেখতে চান তারা হাত তুলুন। রাজেশ বলেন মৌনতা সম্মতির লক্ষণ। আমরা সবাই চাচাকে সভাপতি দেখতে চাই। ডন বলেন বর্তমান বিদ্যমান আইনে নিজাম নির্বাচন করতে পারছে না। সেও ভালো ক্যান্ডিডেট। কোর্ট থেকে ফায়সালা আসলে তখন দেখা যাবে কি করা যায়?
মোহাম্মদ আলী বলেন সবাই আমাকে ক্যান্ডিডেট হতে বলছেন কিন্তু আমার আরো কিছু গার্জিয়ান ও শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন তাদের সম্মতিও আমাকে নিতে হবে।
আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে আরো এক সপ্তাহ সময় লাগবে। এ সময় সবাই একযোগে করতালী দেন। মোহা. আলী, মোহা. আলী বলে শ্লোগান দেন।
বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন সহ অধিকাংশ নির্বাচনে প্রার্থী নিজেরাই যখন বলে বেড়ান আমি ক্যান্ডিডেট। আর ব্যবসায়ীদের ভালোবাসার মানুষ, এফবিসিসিআইকে তিনি দিয়েছেন শুধু নেননি কিছুই। তাঁর জন্য জিবি সদস্যদের এত ভালোবাসা ইতোপূর্বে কারো জন্য দেখা যায়নি।
যখন মোহাম্মদ আলীর নাম বার বার বিভিন্নভাবে উঠছিল,করতালী হচ্ছিল উপস্থিত অনেক ভক্তের চোখে তখন আনন্দঅশ্রু।
তাদের প্রত্যাশা এফবিসিসিআই ফিরে পাবে একজন যোগ্য নেতাকে। ভক্তরা ফিরে পাবে একজন চিরচেনা আপনজনকে। শেষে সবার অনুরোধে একজন জীবী সদস্য মোহাম্মদ আলীর দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া ও শুকরিয়া কামনা করেন। পুনর্মিলনীতে অংশ নেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মীর নাসির হোসেন, সাবেক সিনিয়র ভাইস কামাল উদ্দিন আহমেদ, সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আমিন হেলালি, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মো.হেলাল উদ্দিন, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট হাবিব উল্লাহ ডন,সাবেক পরিচালক আনোয়ার হোসেন, সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, সাবেক পরিচালক খন্দকার রুহুল আমিন, সাবেক পরিচালক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী খোকন, বৈষম্য বিরোধী সংস্কার পরিষদ আহবায়ক জাকির হোসেন নয়ন, সাবেক পরিচালক আব্দুল ওয়াহেদ, সাবেক পরিচালক শফিকুল ইসলাম ভরসা, সাবেক পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা, রিহ্যাব সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূইয়া, সাবেক পরিচালক হাফেজ হারুন, সাবেক পরিচালক মাহবুব ইসলাম রুনু, সাবেক পরিচালক আমজাদ হোসেন, সাবেক পরিচালক নিয়াজ আলী চিশতী, সাবেক পরিচালক কাওসার আহমেদ, ঢাকা মিডিয়া ক্লাব লি. সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এসএমই ওনার্স এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ট্রফি ইসলাম, ডা.মাহবুব হাফিজ, সহায়ক কমিটির সদস্য বেলায়েত হোসেন,আলী জামান এমবিএ, আলাউদ্দিন মালিক, বৈষম্য বিরোধী সংস্কার পরিষদ সদস্য সচিব জাকির হোসেন, ডা. শাহীন, সরকার সালাউদ্দিন, আলমগীর হোসেন, সোহেল রানা, মোহাম্মদ আলী (আলিবাবা ডোর), আওলাদ হোসেন রাজীব, আসলাম আলী, আনিছুর রহমান বাদশা, শামীম আহমেদ, শাকিল আহমেদ, আব্দুল হালিম সিনিয়র, নাজমুল করিম কাজল বিশ্বাস প্রমুখসহ দু’শতাধিক ব্যবসায়ী নেতা।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এফবিসিসিআই নির্বাচনী তফসিল ২০২৫-২৭ ঘোষণা হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :