Agaminews
Dr. Neem Hakim

ময়মনসিংহে দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত


admin প্রকাশের সময় : জুন ২৩, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন /
ময়মনসিংহে দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত

একাত্তর নিউজ ডেস্ক :

“সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ময়মনসিংহে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন, সিলেট এবং লাইফপ্লাস যোগ কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, যোগ অনুশীলনকারী, ক্রীড়াবিদ, শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষসহ বিপুল সংখ্যক স্বাস্থ্যসচেতন নাগরিক অংশগ্রহণ করেন।

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল একটি বৃহৎ সম্মিলিত যোগ সেশন। ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এই সেশনে অংশগ্রহণকারীরা অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন যোগাসন, প্রাণায়াম এবং ধ্যানচর্চায় অংশ নেন। যোগচর্চার মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসিক প্রশান্তি অর্জন এবং সুস্থ জীবনধারা গড়ে তোলার বার্তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা, যা যোগের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহেরই প্রতিফলন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক জনাব সৈয়দ ইমরান সালেহ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান যুগে মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমশ ব্যস্ত ও চাপপূর্ণ হয়ে উঠছে। কর্মব্যস্ততা, মানসিক চাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের ফলে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে যোগচর্চা একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী সমাধান হতে পারে। তিনি বলেন, যোগ শুধু একটি ব্যায়াম নয়; এটি একটি সামগ্রিক জীবনদর্শন, যা শরীর, মন ও আত্মার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করে। নিয়মিত যোগচর্চার মাধ্যমে মানুষ সুস্থ, কর্মক্ষম এবং ইতিবাচক জীবনযাপন করতে পারে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের উপ-সচিব শ্রী বিপিন বিশ্বাস। তিনি বলেন, আধুনিক সমাজে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে যোগচর্চার বিকল্প নেই। তিনি তরুণ প্রজন্মের মাঝে যোগের প্রসার ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জেলা ক্রীড়া সমিতির সচিব জনাব এ কে এম মাহবুবুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ক্রীড়ার পাশাপাশি যোগচর্চা একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খেলোয়াড়দের ফিটনেস, একাগ্রতা ও মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধিতেও যোগ অত্যন্ত কার্যকর। তিনি নিয়মিত যোগচর্চাকে সুস্থ সমাজ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন।

জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা জনাব আল আমিন বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে সুস্থ ও মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার পাশাপাশি যোগচর্চাকে জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। তিনি যোগকে একটি সর্বজনীন অনুশীলন হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, বয়স, ধর্ম, বর্ণ বা পেশা নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য যোগ সমানভাবে উপকারী।

অনুষ্ঠানে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ দাস আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের ইতিহাস, তাৎপর্য এবং এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ কর্তৃক আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ঘোষণার পর থেকে বিশ্বব্যাপী যোগচর্চার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তির জন্য যোগকে জীবনধারার অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, যোগ এমন একটি সামগ্রিক অনুশীলন যা জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে উপকারী। বিশেষ করে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য যোগ শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা, মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধি এবং স্বাধীনভাবে জীবনযাপন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ বছরের প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বার্ধক্যজনিত স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সক্রিয় ও সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

লাইফপ্লাস যোগ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জনাব জুলফিকার হায়দার তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত জীবনে যোগের ইতিবাচক প্রভাব এবং দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মাঝে যোগচর্চা বিস্তারে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যোগ মানুষের জীবনে আত্মবিশ্বাস, মানসিক স্থিতি ও ইতিবাচকতা বৃদ্ধি করে। নিয়মিত যোগচর্চার মাধ্যমে বহু মানুষ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সমাধান পেয়েছেন এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা সম্মিলিতভাবে বলেন, বর্তমান বিশ্বে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই সুস্থতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যোগ একটি পরীক্ষিত ও কার্যকর পদ্ধতি। এটি শুধু রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে না, বরং ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য এবং যোগচর্চার উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও বৃহৎ পরিসরে যোগ বিষয়ক কর্মসূচি আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

ময়মনসিংহে প্রথমবারের মতো ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন, সিলেট-এর সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজকরা সকল অতিথি, অংশগ্রহণকারী, সহযোগী প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যমকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন যে, যোগের এই সার্বজনীন বার্তা ভবিষ্যতেও মানুষের মধ্যে সুস্থতা, সম্প্রীতি ও ইতিবাচক জীবনবোধ ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।