
একাত্তর নিউজ ডেস্ক:
বাবার গড়ে তোলা শখের কমলা বাগান নিয়ে এখন স্বপ্ন দেখছেন যুবক রাসেল হোসেন। সৌদি আরবে ছিলেন রাসেল। তবে সেখানে খুব ভাল ছিলেন না। প্রবাস জীবন শেষ করে ২০২২ সালে দেশে ফিরে পরিবহন সেক্টরে চাকুরী শুরু করেন। তবে কৃষির প্রতি প্রবল ঝোঁক থেকে চাকুরি ছেড়ে বাবার গড়ে তোলা বাগানে নিযুক্ত করেন নিজেকে। এরপর নতুন করে শুরু করেন যত্ম-পরিচর্যা। কমলা গাছগুলো বেড়ে উঠে সতেজতা নিয়ে। ফলন আসে আশাতীত। বিদেশী কমলা ঘরের কাছে পেয়ে সাড়া পড়ে যায় ক্রেতাদের কাছে। কমলা কিনতে বাগানে ছুটে আসেন ক্রেতারা। তবে সহযোগিতা পেলে আরো বড় পরিসরে কমলা চাষ করতে চান রাসেল।
সরেজমিন জানা যায়, শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া মৃধাকান্দি এলাকায় প্রায় ৬ বছর আগে ১ বিঘা ৩৩ শতাংশ জমিতে শওকত হোসেন রোপন করেন ৬০ টি ছোট জাতের কমলা গাছ। গাছ লাগানোর পর প্রথমত ফলন আসতো না। ২০২২ সালে শওকত হোসেনের ছেলে রাসেল হোসেন সৌদি আরব থেকে বাড়ি আসেন। প্রবাস ফেরত রাসেল দেশে কি করবেন তা নিয়ে ছিলেন চিন্তিত। পরিবহন সেক্টরে কিছু দিন কাজও করেন। তবে কৃষি কাজের প্রতি অগাধ ভালবাসা তাকে বারবার যেন টানছিল মাটির কাছে। তাইতো পরিবহন সেক্টরের কাজ ছেড়ে বাবার কমলা বাগানের হাল ধরেন রাসেল হোসেন। কমলা চাষ নিয়ে ইন্টারনেট ঘেটে পড়াশোনা শুরু করেন। শুরু হয় নতুন করে পরিচর্যা। ২০২৪ সালে বাগান ভরে আসে কমলার ফুল। পরিণত কমলা রঙিন রঙ ধারণ করে। কোন প্রকার ক্ষতিকারক রাসায়নিক স্প্রে না করার কারনে স্বাদে বেশ মিষ্টিও। বাজারে থাকা বিদেশী কমলার চেয়ে সুমিষ্ট স্বাদ হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে সাড়া পড়ে যায় রাসেলের কমলা। চলতি বছর আবহাওয়া জণিত কারণে ফলন কিছুটা কম হলেও এবছর স্বাদ আরও বেড়েছে। টকভাব কমে গিয়ে বেশ মিষ্টি এবার রাসেলের বাগানের কমলা। পাইকারি বিক্রির পাশাপাশি খুচরা বিক্রি করছেন দেদারছে। বাজারে ২৮০/৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন নিজস্ব বাগানের কমলা। অনেকেই বাগান থেকে সরাসরি কমলা ক্রয় করতে ছুটে আসেন। কমলার পাশাপাশি মাল্টা পেয়ারসহ অন্যান্য ফলও আছে রাসেলের বাগানে। বাগানের পরিধি আরো বৃদ্ধির পরিকল্পনা থাকলেও অর্থের অভাবে তা পারছেন না এই উদ্যোক্তা। সরকারি সহযোগিতা পেলে আরও ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
কমলা কিনতে আসা তৌহিদ মাদবর বলেন, অনেকের মুখে এই বাগানটির কথা শুনে আজ এলাম। বাগানে ঘুরে ঘুরে কমলা দেখলাম খুব আনন্দিত হলাম। কমলা খেয়ে দেখলাম অনেক মিষ্টি ও সুস্বাদু। মেডিসিন মুক্ত তাই পরিবারের জন্যও দুই কেজী কিনলাম।
আরেক ক্রেতা নুর হোসেন বলেন, জীবনে প্রথম কমলা বাগান দেখে খুব ভাল লাগলো। এ বাগানের কমলা খেতেও দারুন। আমি আমার ছেলে মেয়েদের নিয়ে এখানে বেড়াতে আসবো। কমলা চাষী রাসেল হোসেন বলেন, প্রবাস থেকে দেশে ফিরে এসে কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। পরিবহন সেক্টরে কিছুদিন কাজও করেছি কিন্তু ভাল লাগেনি। আমার বাবার হাতে গড়া বাগানে এসে কাজ শুরু করলাম। ইন্টারনেট ঘেটে ও বিভিন্ন কৃষি বিষয়ক বই পড়ে কমলা চাষ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে নতুন উদ্যেমে কমলা চাষ শুরু করি। প্রথম দিকে টক হলেও এখন কমলা খুবই মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়েছে। আমি কোন ক্ষতিকারক কীটনাশক ব্যবহার করিনা। কমলার ফলনও ভাল বিক্রিও হচ্ছে দেদারসে। তবে সরকারী সহযোগিতা পেলে আরো বড় পরিসরে কমলার বাগান করার ইচ্ছে আছে। শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, রাসেলের বাগানের কমলার ফলন দিন দিন ভাল হচ্ছে। তাকে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সে যদি কৃষি ঋন নিতে আগ্রহী হয় তবে তাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :