Agaminews
Dr. Neem Hakim

শুভাঢ্যা সর্বজনীন মহাশ্মশান মন্দির কমিটির সফলতায় কেরানীগঞ্জবাসীর প্রশংসা


Ekattor News প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৮, ২০২৫, ২:১৮ অপরাহ্ন /
শুভাঢ্যা সর্বজনীন মহাশ্মশান মন্দির কমিটির সফলতায় কেরানীগঞ্জবাসীর প্রশংসা

স্টাফ রিপোর্টার
মরিতে চাহিনা আমি সুন্দরও ভুবনে, মানবের তরে আমি বাঁচিবার চাই। –কবি যথার্থই যুক্তিযুক্ত এবং চিরন্তন সত্য কথা বলেছেন। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির সেরা জীব মানুষকে জনহিতকর কার্যের মাধ্যমে অমরত্ব লাভের সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। মানুষকে তিনি দিয়েছেন জ্ঞান, বুদ্ধি ও বিবেক। আর সৃষ্টিকর্তার অন্য কোন সৃষ্টিকে, তিনি এসব আলোকিত গুনাগুন দেননি। এ পৃথিবীতে অনেক চিরস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব তাদের জনহিতকর এবং মহৎ কার্যের কারণে, এ পৃথিবী থেকে তারা বিদাই নিয়েছে ঠিকই , কিন্তু মানুষের কল্যাণের কাজে নিজের আত্মত্যাগের মহিমায় চিরস্মরণীয় ও অমর হয়ে চিন্ময় রূপে বেঁচে আছেন। পৃথিবীতে মানব জাতি যতদিন বেঁচে থাকবে, তারাও তাদের মহান কাজের পুরস্কার স্বরূপ মানুষের মনের মনিকোঠায় অম্লান হয়ে বেঁচে থাকবে। তাইতো কবি ও দার্শনিকেরা বলেছেন – মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নয়।
আর বারবার শুভাঢ্যা সর্বজনীন মহাশ্মশান মন্দির কমিটির প্রধান উপদেষ্টা, সমাজসেবক ও জে কো ব্যাটারি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসের স্বত্বাধিকারী বিমল চন্দ্র মন্ডলের নির্দেশনায় শুভাঢ্যা মহাশ্মশান মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ নানা রকম নতুন নতুন চমকপ্রদ ও ভক্ত হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে যাওয়ার মতো মহৎ কাজ করে যাচ্ছেন।
তারা এবার শারদীয় দুর্গাপূজায় অনুষ্ঠিত ২২টি দুর্গা মন্দিরে প্রদক্ষিণ করেন এবং তাদের নগদ অর্থ প্রদান করেন। শুধু তাই নয় পূজা পার্বণ যেন সাবলীলভাবে হতে পারে সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখেন।
প্রধান উপদেষ্টা বিমল চন্দ্র মন্ডল বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চাইতে এবার দুর্গাপূজা হয়েছে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এবং সকলের মধ্যে ভক্তিমূলক প্রাণের সঞ্চার পরিলক্ষিত করা যায়।
আর এই দুর্গাপূজাকে ঘিরেই শুক্রবার (১৭ অক্টোবর )শুভাঢ্যা সর্বজনীন মহাশ্মশান মন্দির প্রাঙ্গণে শ্রেষ্ঠ দুর্গাপূজার প্রতিমা নির্মাণে অবদানের জন্য প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী মন্দিরগুলোকে পুরস্কার হিসেবে নগদ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ২২টি দুর্গা মন্দিরের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন পারগেন্ডারিয়া পঞ্চায়েত দুর্গা মন্দির কমিটি, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন চুনকুটিয়া কালীবাড়ি পঞ্চায়েত দুর্গা মন্দির কমিটি এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন দিঘীরপাড় পঞ্চায়েত দুর্গা মন্দির কমিটি।
উক্ত সংবাদটি তৎক্ষণাৎ কেরানীগঞ্জের সনাতনীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা শুভাঢ্যা মহাশ্মশান মন্দির কমিটিকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা আরো বলেন শুভাঢ্যা মহাশ্মশান মন্দির কমিটির নতুন নতুন যুগান্তকারী উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই এবং আমরা চাই তারা নতুন নতুন আধুনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সকল সনাতনীদেরকে ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যে উদ্বুদ্ধ করুক এবং ঐক্যবদ্ধ করে আরো অনেক দূরে এগিয়ে যাক।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন-মন্দির কমিটির সভাপতি সমীর চন্দ্র ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র দাস, উপদেষ্টা বুলু সরকার, উপদেষ্টা হরেন্দ্র নাথ মজুমদার, উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার শংকর চন্দ্র দাস, উপদেষ্টা চন্দন সরকার, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট শেখর চন্দ্র দাস, সহ-সভাপতি সাংবাদিক পলাশ চন্দ্র দাস, কোষাধক্ষ্য কিরণ অধিকারী, সহ-সভাপতি কিশোর মণ্ডল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার দে প্রমুখ।
তারা বলেন – আমাদের জানা মতে অতীতে শুভাঢ্যায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে এমন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কখনো অনুষ্ঠিত হয়নি। এটা শুধু একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নয় বরং এটার মধ্য দিয়েই আগামী দুর্গাপূজাকে আরো বেশি কিভাবে সুন্দর করা যায় এ প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল শুভাঢ্যার সকল দুর্গা মন্দির গুলোতে। তারা অত্যন্ত উদ্বুদ্ধ ও প্রতিযোগিতার মনোভাব নিয়ে আগামী দূর্গা পূজার প্রস্তুতি শুরু করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তাদের মধ্যে যেই প্রাণের সঞ্চার দেখতে পেলাম তা দেখে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা ভবিষ্যতে আরো অনেক সুন্দর সুন্দর পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে চাই এবং এর জন্য শুভাঢ্যার সকল মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।