Agaminews
Dr. Neem Hakim

সংস্কারের নামে কালো আইনের প্রতিবাদে দুই শতাধিক বাণিজ্য সংগঠনের সভা অনুষ্ঠিত


admin প্রকাশের সময় : মে ১৮, ২০২৫, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন /
সংস্কারের নামে কালো আইনের প্রতিবাদে দুই শতাধিক বাণিজ্য সংগঠনের সভা অনুষ্ঠিত

বিজনেস ফাইল প্রতিবেদক
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর এক অভিজাত রেস্তোরাঁয় প্রায় তিন শতাধিক জিবি সদস্যের (১৮০ টি এসোসিয়েশন প্রতিনিধি, ২২ টি চেম্বার প্রতিনিধি) উপস্থিতিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ব্যবসায়ী নেতা নিজামউদ্দিন রাজশের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সহ-সভাপতি এবং বারবার সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত পরিচালক মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ। সাম্প্রতিক সময়ে শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই নির্বাচন নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। সংস্কার নিয়ে ৮ মাস সময় ক্ষেপনের পর হঠাৎ জানা যায় অধিকাংশ সদস্য যা চান না সেই আইন পাস হতে যাচ্ছে। আইন মন্ত্রণালয় বাক্য, শব্দ এবং অর্থ মিল রেখে সংশোধনী দিলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তৃতীয় বারের মত তা ঠিক করেনি বলে সূত্রটি জানায়। শেষ পর্যন্ত ‘ইতিপূর্বে’ শব্দটি রেখেই আইনটি পাস হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
উপস্থিত জিবি সদস্যরা পাস হতে যাওয়া আইনকে ব্যবসায়ী সমাজের বিরুদ্ধে একটি কালো আইন বলে অভিহিত করেছেন। তাদের বিশ্বাস বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শেষ পর্যন্ত এ কালো আইন গেজেট ভুক্ত করা থেকে বিরত থাকবেন।
অনুষ্ঠানে গত এফবিসিসিআই নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া পরিচালক আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা ৭ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ হাজী মো. এনায়েতুল্লাহ বলেন একটি অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টার সামনে প্রশাসককে তার কিছু ত্রুটি ধরিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর থেকে আর কোনো প্রোগ্রামে আমার নামে আর আমন্ত্রণপত্র পাঠান হচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই তে কোন ধরনের কালো আইন প্রযোজ্য হতে পারবে না। প্রয়োজনে এফবিসিসিআই ঘেরাও সহ সারাদেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এক্ষেত্রে সত্যের জয় হবে ইনশাল্লাহ।
১০ বারের নির্বাচিত সাবেক পরিচালক আবু মোতালেব বলেন অনেক হয়েছে এবার থামুন। যে দেশে সিগারেটের বিজ্ঞাপন সরকার নিষিদ্ধ করে, চার বছর আগে সিগারেটের সমিতি সরকার বিলুপ্ত করে দেয়। সেই দেশে নতুন করে সিগারেটের সমিতি কিভাবে এফবিসিসিআই তে অ্যাফিলেটেট হল ব্যবসায়ীরা জানতে চায়? ৩৭ টি সমিতি অ্যাফিলিেশনের জন্য পাইপলাইনে অথচ বেভারেজ নামে নতুন সংগঠনের অন্তর্ভুক্তি হওয়া হাস্যকর। কেবলমাত্র এফবিসিসিআই’র নির্বাচিত বোর্ড বা মহামান্য আদালত ছাড়া এটা করা যায় না। প্রশাসক হাফিজুর রহমান তা করেছেম। তিনি আমাদের প্রিয় সংগঠন এফবিসিসিআইকে কলঙ্কিত করেছেন তার পদত্যাগ করা উচিত? যাদের ১৭ বছর কোথাও দেখা যায়নি, তারা হঠাৎ করে বড় বিএনপি নেতা হয়ে গেলেন, এফবিসিসিআই তে ঢুকে পড়লেন। একবার পরিচালক প্রার্থী হয়ে মাত্র কয়েকটি ভোট পেয়েছিলেন এটা সবাই জানেন। তিনি আমেরিকার পাসপোর্ট ধারী। সিএনজি নামক যে সংগঠনের নেতা তিনি আদালতের রায়ে সেসংগঠনেরও নির্বাচন স্থগিত হয়ে আছে। তার সাথে গিয়াস উদ্দিন খোকন নামে যিনি আছেন তিনি তো মূলত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পয়সায় চলা লোক। একসময় এগ্রিকালচারের নেতা হলেও বর্তমানে তিনি মোবাইল ফোন এসোসিয়েশন নেতা। তার নিদিষ্ট কোনো সংগঠন নেই এক এক সময় এক এক সংগঠনের সদস্য তিনি। আবুল কাশেম হায়দার আর আবদুল হক দু’জন (সুইয়িং থ্রেট)একই সংগঠনের সদস্য। আরেকজন জীবী নন।তিনিসহ উল্লেখিত সবাই সহায়ক কমিটির সদস্য। বৈষম্য আর কাকে বলে? ৩ বার সহ-সভাপতি হবার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে কারণ আমি বিএনপি নেতা (অর্থাৎ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহসভাপতি ছিলাম)। আমি হচ্ছি সবচাইতে বেশি বৈষম্যের শিকার। আজকের অনুষ্ঠান কমপক্ষে ৩০জন সাবেক পরিচালক উপস্থিত আছেন। আর তাদের পুরো কমিটিতেও ৩জন পরিচালক নেই। এফবিসিসিআইকে কলংকিত করার অধিকার আপনাদের নেই। এফ বি সি সিআই এর স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন বলেন সত্যি কথা বললে উকিল নোটিশ করেন। মনে রাখবেন প্রতারক, বাটপারদের ব্যবসায়ী সমাজে স্থান হবে না। গহনা নিয়েছেন ১০ বছর আগে এখনো পয়সা পুরোপুরি পরিশোধ করতে পারেননি? আওয়ামী লীগ আমলে দালালী করে এখন বিএনপি সেজেছেন। ভাতের হোটেল বানিয়েছেন, মাস শেষে বাবুর্চির পয়সা দিতে পারেন না। প্রশাসক কে মিস গাইড করে ফায়দা লুটছেন। এর পরিনাম ভালো হবে না। একই সংগঠনের সদস্য সচিব মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন এনাফ ইজ এনাফ। লাফালাফি করেন না। সময় থাকতে এফবিসিসিআই থেকে বের হয়ে যান নইলে ঘাড়ে গর্দানে দিয়ে জিবি সদস্যরা আপনাদের বের করে দেবে। বিয়ের আগে কেউ তালাক দিতে পারে না। আইন হচ্ছে ফ্রন্ট লাইন, পেছনে কি হয়েছে এটা দিয়ে আইন হতে পারে না। আইন পাস হবে কাজ শুরু হবে। বললেন ব্যবসায়ী মোস্তফা। খন্দকার রুহুল আমিন বলেন আমরা কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি লেখাপড়া করেই ব্যবসায়ে নেমেছি। যা তা বলে আইন বলে চালিয়ে দিবেন তা কিন্তু হবে না। নিয়াজ আলী চিশতী বলেন সংগঠন করি নিজের বিবেকের তাড়নায়, লাভে কিংবা লোভে নয়। এত লুকোচুরি কেন? সাহস থাকলে ভালো সংস্কার করে নির্বাচন দিন। গতবার নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মাত্র এক বছর দায়িত্ব পালন করেছি। আমাদের অপরাধ কি ছিল আমরা তো ভোটেই জিতেছিলাম। প্রশাসক এনে তাকে দিয়ে এগুলো কি করাচ্ছেন?
মীর নিজামউদ্দিন আহমেদ সভাপতির বক্তব্যে বলেন কথায় কথায় মামলা দেবেন, হামলা করবেন, গুম করবেন, পালাবার পথ থাকবে না বলেন। আপনাদের মনে রাখা উচিত আমরা কিন্তু সরকারি প্যানেলের বিরুদ্ধে অর্থাৎ সালমান সাহেবের বিরুদ্ধে যেয়ে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছি। এত কষ্টের নির্বাচনে আপনারা বারাভাতে ছাই দিয়েছেন। মাথা হেট হয়ে যায়। ভাবতে খারাপ লাগে এফবিসিসিআই কে আপনারা কোন জায়গায় নিয়ে গেছেন? আপনাদের ভুলে আমরাতো আমরা তো ব্যবসা করে বসে থাকতে পারবো না।
অন্যান্যদের মধ্যে শহিদুল হক মোল্লা, আমির হোসেন নূরানী, এমএ সাত্তার খান, আলাউদ্দিন মালিক, মু আবু সাদেক,কাউসার আহমেদ, মো বখতিয়ার, হাফেজ হারুন,আসলাম আলী, এসএমই ওনার্স এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ট্রফি ইসলাম, আলী জামান, মোস্তাক আহমেদ বিপ্লব,আলমগীর হোসেন,জাহাঙ্গীর আলম প্রভৃতি।