
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানার সাহরাইল বাজারে ইউনিয়ন পরিষদের পাশে অবস্থিত স্বর্ণপট্টির ‘রনি জুয়েলার্স’-এর প্রোপাইটর মোঃ জাহাঙ্গীর আলম দোকানটি কার্যত নিয়ন্ত্রণ করছে সে নিজেই । সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, জাহাঙ্গীর আলম অবৈধ ও চোরাই স্বর্ণের কারবারের মাধ্যমে অল্প সময়ে কোটিপতি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সে একসময় শ্রমিক ছিলো, কিন্তু স্বল্প সময়ে চোরাই স্বর্ণের ব্যবসা করে ব্যবসার মালিক বনে যায়।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা দোকানটি নজরে রাখেন এবং ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি দোকানে এসে জাহাঙ্গীর আলমের কাছে স্বর্ণ বিক্রি করছে। দৃশ্য দেখে মনে হয়, এটি তাদের নিয়মিত লেনদেনের অংশ। আশেপাশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানান, রনির এত স্বর্ণের উৎস সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না।
ঘটনা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের প্রতি জাহাঙ্গীর আলম ক্ষিপ্ত হয়ে দুর্ব্যবহার করে। তার এই আচরণ দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ ও উপস্থিত সাংবাদিকদের মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ হয়। ঘটনাস্থলে মুহূর্তেই অর্ধশতাধিক মানুষের ভিড় জমে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত চারজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে চোরাই স্বর্ণের ব্যবসার সাথে জড়িত। স্বর্ণপট্টির সভাপতি রঞ্জিত হালদার ফোনে জানান, তিনি অসুস্থ থাকায় ঢাকায় অবস্থান করছেন। সাধারণ সম্পাদক সোহেল হোসেন বলেন, “আমাদের স্বর্ণপট্টিতে চোরাই স্বর্ণ কেনাবেচার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ সত্য হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, “তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী সাংবাদিকদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে সন্ধ্যার পরে ফোন দিয়ে শায়েস্তা করার হুমকি দেয় এবং পুলিশকে ‘দেখে নেওয়ার’ কথাও বলে । এছাড়াও, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
আপনার মতামত লিখুন :